ফ্রীল্যান্সিং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং সুন্দর পেশা। এর মাধ্যমে যে কেউই সামান্য চেষ্টা করে ভালো উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু কাজ জানলেই কাজ কিভাবে পাবেন? এর নিশ্চয়তা কি? চিন্তার কিছু নেই, আছে ওডেস্ক। নিশ্চয়ই, প্রশ্ন জেগেছে মনে ওডেস্ক কি? ওডেস্ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় ফ্রীল্যান্সিং প্লাটফরম যারা ফ্রীল্যান্সারদের কাজ পেতে এবং বায়ারদের কাজ করিতে নিতে সাহায্য করে। তা আজকে আমরা আলোচনা করছি কিভাবে একটি ওডেস্ক প্রোফাইল তৈরী করা যায় এবং তাতে সম্পূর্ণতা দান করা যায়।
প্রথমেই ওডেস্কে সাইন আপ করতে হলে একটি ইমেইল একাউন্ট লাগবে। যদি থাকে ভালো আর না থাকলে এখান যাবতীয় তথ্য পূরণ করে একটি ইমেইল একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারেন।
তারপর ওডেস্কে যান এবং “I Nedd a Job” অপশন এ গিয়ে সাইন আপ বাটন প্রেস করুন। তারপর ওখানে যেই বিষয়গুলো দরকার সেই সব বিষয়গুলোর ফাঁকা ঘর পূরণ করে “Get Started” বাটনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার ইমেইল এ গিয়ে ইমেইল ভেরিফিকেশন করুন। ব্যাস, হয়ে গেল একটি ওডেস্ক ফ্রীল্যান্সার একাউন্ট।
প্রোফাইল তৈরী করা
প্রোফাইল তৈরী করার জন্য প্রথমেই আপনার ওডেস্ক একাউন্টে লগ ইন করতে হবে। লগ ইন করার পর প্রথমেই দেখতে পাবেন “Create Your Profile” অপশন। ওখানে ক্লিক করুন।
প্রথমেই দেখতে পাবেন “display name as” অপশন। মানে আপনি কি আপনার নাম পুরোটা দিবেন নাকি অর্ধেক দিবেন তাই। তারপর যথাক্রমে প্রোফাইল পিকচার আপলোড, আপনার কাজের বা কোম্পানির টাইটেল নেম এবং আপনার বা আপনার কোম্পানির সম্পর্কে বর্ণনা, আওয়ারলী আপনার রেট দিতে হবে। তারপর আপনার ইংরেজী লেভেল, কোন ধরনের কাজ আপনি চাইছেন, প্রোফাইল ভিসিবিলিটি, ঠিকানা, শহর, দেশ, পোস্টাল কোড, ফোন নাম্বার দিয়ে “save profile and continue” বাটনে ক্লিক করতে হবে।
এখন হয়ে গেলো আপনার ওডেস্কের জন্য খুব সুন্দর ও আকর্ষনীয় প্রোফাইল। কেননা, একটি ভালো প্রোফাইলই পারে আপনাকে দ্রুত ও ভালো কাজ পাইয়ে দিতে।
১০০% প্রোফাইল সম্পূর্ণকরণ
আপনার প্রোফাইল ৩০% সম্পূর্ণ হয়েছিল। আজকে আমরা দেখবো, কিভাবে প্রোফাইলকে ১০০% সম্পূর্ণ করতে হয়।
ওডেস্কে প্রবেশ করার পর আমরা “complete profile” নামক অপশন দেখবো। সেখানেই প্রথমে ক্লিক করুন। এখানে গিয়ে প্রথমে আপনাকে আপনার “skill” যোগ করতে হবে। স্কিল বলতে, আপনি কোন কাজে পারদর্শী তা বোঝায়। তারপর আসবে, আপনার “employment history”। এখানে আপনাকে দিতে হবে আপনি কোথাও কাজ করেছেন কিনা বা করলেও কবে করেছেন, কোথায় করেছেন তা দিতে হবে। তারপর “education section” এ এসে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যোগ করতে হবে।
এবার আসুন “portfolio” অপশনে। এখানে আপনি আপনার পূর্বের তৈরী করা কোন কাজ স্যাম্পল হিসেবে যোগ করতে পারবেন। যেমনঃ আপনি আর্টিকেল লিখতে পারদর্শী। তাই, পূর্বে আপনার লিখা কোন আর্টিকেল থাকলে এখানে তা যুক্ত করে দিন।
পরের অংশে দেখাবো কিভাবে বাকী কাজ সম্পন্ন করে আপনার প্রোফাইল ১০০% সম্পূর্ণ করবেন।
আপনার যদি কোন সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে “certificate option” এ এসে তা যুক্ত করে দিন। অন্য কোন অভিজ্ঞতা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে “other experience section” এ এসে তা যুক্ত করে দিন।
সবার শেষে আপনাকে “odesk readiness test” দিতে হবে। এই পরীক্ষায় যদি আপনি পাশ করেন তাহলে আপনার কাজ পাবার কোটা বেড়ে যাবে এবং প্রোফাইলও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। ওডেস্ক টেস্ট না দিলে আপনি মাত্র দুটি কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর ওডেস্ক টেস্টে পাশ করলে দশটি কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই টেস্ট দিতে হবে আপনাকে ৪০ মিনিট সময়ের মধ্যে। ১১ টি প্রশ্ন থাকবে। যার সবগুলো উত্তর সঠিকভাবে দিতে হবে।
এভাবে উপরের বর্ণনানুযায়ী কাজ করতে পারলে আপনার প্রোফাইল ১০০% সম্পূর্ণ হতে যাবে। আর, মনে রাখবেন, ১০০% সম্পূর্ণ প্রোফাইল ই হচ্ছে দ্রুত ও ভালো কাজ পাবার নিশ্চয়তা।
এই বিষয়ে আরো জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন।
ইউজার সেটিংস পরিচিতি ও আইডি ভেরীফিকেশন
আজকে আমরা দেখবো ইউজার সেটিংস ও কিভাবে আইডি ভেরীফিকেশন করতে হয়।
প্রথমে ওডেস্কে লগ ইন করুন এবং প্রোফাইল লিঙ্ক এ ক্লিক করুন। এবার একটু বাম পাশে লক্ষ্য করুন। নিশ্চয়ই “user settings” দেখতে পাচ্ছেন। এখানে দেখুন “contact info”। এখান থেকে আপনি আপনার যোগাযোগের তথ্যগুলো দেখতে পাবেন। যেমনঃ আপনার নাম, ইমেইল, কোম্পানি নাম ইত্যাদি। এবার আসুন, “my contractor profile”। এখানে আপনি আপনার কন্ট্রাক্টর প্রোফাইল এর যাবতীয় তথ্য দেখতে পাবেন।
এবার দেখুন, মাই টিমস। আপনি যদি কোন টিমের সদস্য হয়ে থাকেন বা আপনার নিজের কোন টিম থাকলে সবার কার্যক্রম এখান থেকে দেখতে পারবেন। মাই টেস্টস অপশন থেকে আপনি কি কি টেস্ট দিয়েছেন বা কোন টেস্টে কত নাম্বার পেয়েছেন এই সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনার যদি এক বা একাধিক একাউন্ট থাকে তাহলে তা আপনি লিঙ্কড একাউন্ট থেকে দেখতে পারবেন। চাইলে এই অপশন ব্যবহার করে আপনি আপনার ফেসবুক বা টুইটার একাউন্ট দিয়েও ওডেস্কে লগ ইন করতে পারবেন।
চেঞ্জ পাসওয়ার্ড অপশনে গিয়ে আপনি আপনার বর্তমান পাসওয়ার্ডটি পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি যদি অন্য কোন কম্পিউটার থেকে আপনার একাউন্ট এ প্রবেশ করতে চান তাহলে একটা সিকিউরিটি প্রশ্ন চাইবে। তাই সিকুরিটি কোয়েশ্চেন অপশন এ গিয়ে খুব সহজেই আপনার সিকিউরিটি প্রশ্ন ও তার উত্তর যুক্ত করতে পারবেন।
এবার আসি আইডি ভেরীফিকেশন এ। আপনার হোম্পেজ এর ডানদিক থেকে ভেরীফাই ইউর আইডেন্টিটি অপশন এ ক্লিক করুন। এখানে গিয়ে রেডী এন্ড গেট স্টার্টেড বাটনে ক্লিক করে আপনার পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট এর স্ক্যান করা কপি ও আপনার ব্যাংক একাউন্ট বা বাড়ীর বিল এর স্ক্যান করা কপি আপলোড করে আপনার আইডি ভেরীফাই করতে পারবেন। এতে আপনার প্রোফাইল সুন্দর ও হবে এবং আপনার কাজে আবেদন করার সংখ্যাও বেড়ে যাবে।
কাস্টোমার সাপোর্ট এবং ওডেস্ক টিম এপ্লিকেশন
আমরা দেখবো কিভাবে ওডেস্ক এর কাস্টময়ার সাপোর্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে পারি, কিভাবে ওডেস্ক এর টিম এপ্লিকেশন সফটওয়্যার ডাউনলোড করবো এবং কিভাবে এর ব্যবহার করতে হয়।
প্রথমেই কাস্টোমার সাপোর্ট এর ব্যাপারে আসি। ওডেস্ক এ প্রবেশের পর ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে অল ম্যাসেজ এ ক্লিক করুন। এখানে টিকেট নামক একটা অপশন পাবেন। ঐখানে ক্লিক করুন। দেখুন তো সাবমিট টিকেট নামে কোন বাটন দেখতে পাচ্ছেন কিনা। হ্যা, ঠিক বাটনেই ক্লিক করেছেন। এবার, টপিক সিলেক্ট করুন। তারপর সাবটপিক সিলেক্ট করুন। আবার আপনি ওডেস্ক এর কাস্টোমার সাপোর্ট এর সাথে লাইব চ্যাট করতে পারেন। এভাবে আপনার সম্যসার কথা জানাতে পারেন। আপনার সমস্যা যদি খুব জটিল হয় যে, আপনি লাইভ চ্যাটে সমাধান করতে পারছেন না তাহলে ক্রিয়েট এ সাপোর্ট টিকেট এ ক্লিক করুন। আপনার সমস্যার কথা জানানোর ৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব পাবেন।
এবার ওডেস্ক টিম এপ্লিকেশন নিয়ে কিছু কথা। প্রথমেই, আপনার ডানদিক এর নিচ থেকে এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে নিন এবং আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করে নিন। ওডেস্কে দুই ধরনের কাজ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে ফিক্সড জব এবং অপরটি আওয়ারলী বা ঘণ্টা অনুযায়ী কাজ। আপনি যদি ঘন্টানুযায়ী কাজ করতে চান তাহলে এই এপ্লিকেশন সফটওয়্যারটি আপনার জন্যেই। এটিতে লগ ইন করার পর আপনি যে বায়ারের কাজ ঘন্টনুযায়ী করবেন তার আইডি সিলেক্ট করুন এবং টাইম ট্র্যাকার চালু করে দিন। টাইম ট্র্যাকার চালু করতে স্টার্ট বাটন ও বন্ধ করতে হলে স্টপ বাটনে ক্লিক করুন। এখানে, আপনার কাজের প্রমাণস্বরূপ কিছুক্ষন পরপর স্ক্রীণশট নেওয়া হবে, তাই এটি চালু করে অন্য কাজ করতে গেলে সাবধান। কেননা, আপনি নিজেও জানেন না বায়ার কখন স্ক্রীণশট নেবে। আজ এ পর্যন্ত। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানান।
কিভাবে আপনার পছন্দনুযায়ী কাজ খুঁজবেন
আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে আপনি আপনার সামর্থ্য আনুযায়ী ভালো কাজ খুঁজে নিবেন ও তা করবেন। নিশ্চয়ই আপনি আপনার কাজের নমুনা দিয়েছেন এবং আপনার কাজের বিভাগগুলিও নির্বাচন করেছেন। ওডেস্কে কাজ খুঁজার জন্য আপনি দুটি পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারবেন। প্রথমটি হচ্ছে, কী ওয়ার্ড দিয়ে কাজ খোঁজা। ওডেস্কে প্রবেশ করার পর আপনার হোমপেজেই দেখতে পারবেন সা...র্চ বাই কী ওয়ার্ড অপশন। এখানে আপনি আপনার কাজের নাম দিয়ে সার্চ করতে পারবেন। আপনি যদি আর্টিকেল রাইটার হন তাহলে শুধু আর্টিকেল বা আর্টিকেল রাইটিং লিখে সার্চ করতে পারেন। এরপর আপনাকে বিভিন্ন কাজ দেখানো হবে। কাজ পছন্দ হলে বিড করবেন।
আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, এডভান্সড সার্চ অপশন। এখান থেকে আপনি আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করে কাজ পেতে পারেন। এডভান্সড সার্চ করার জন্য সার্চ বাই কী ওয়ার্ড এর পাশে এডভান্সড অপশনে ক্লিক করুন। এখান থেকে আপনি সর্ট বাই বাটন প্রেস করে কোন্টি নতুন কাজ, কোন্টি পুরাতন, কোন্টি বেশী টাকা দিবে এমন কাজ পছন্দ করতে পারবেন। জব স্ট্যাটাস থেকে দেখতে পারবেন কোন কাজটি খোলা রয়েছে বা কোন্টি বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের কাজ খোজার পর্ব এখন শেষ। আবার কাজ নির্বাচন করার পালা যে কোন কাজটি আপনি ভালোভাবে করতে পারবেন। সার্চ রেজাল্ট আসার পর প্রতিটি কাজ দেখুন। কোন্টির জন্য আপনি বেশী যোগ্য। কাজে বিড করার পূর্বে দেখে নিন বায়ার কত টাকা ইতিমধ্যে খরচ করেছে, বায়ার এর রেটিং কেমন, বায়ার নতুন না পুরাতন, বায়ার এর পেমেন্ট পদ্ধতি ভেরীফাই করা আছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো সবকিছু যদি আপনার সাথে মিলে যায় তাহলে তাহলে ওই কাজের জন্যই বিড করুন।
এভাবেই নিয়মগুলো অনুসরন করতে পারলে আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজ খুঁজে বের করতে পারবেন এবং সব কিছু দেখে শুনে ঐ কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আশা করি, আপনার কাজ সফল হোক।
কিভাবে কাজে বিড করবেন, বিড পরিবর্তন বা উঠিয়ে নিবেন
আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে আমরা কোন কাজ এ বিড অর্থাৎ কোন কাজ এর জন্য কিভাবে আবেদন করব। কিভাবে আবেদন করা কাজে পরিবর্তন করতে পারবো বা আবেদন করা কাজের আবেদন তুলে নিতে পারবো।
আগের পর্বের মত প্রথমে কাজ খুঁজে নেই। ওই কাজের বর্ণনা সম্বলিত পেজে যাই। ওখানে কি দেখতে পাচ্ছি। নিশ্চয়ই হলুদ রঙ এর এপ্লাই টু দিজ প্রোজেক্ট লিখা দেখতে পাচ্ছি। ঐখানে ক্লিক করি। নতুন পেজ আসলো। আপনি যদি কোন টিম এর সদস্য হয়ে থাকেন তাহলে দুটো অপশন পাবেন। একটি হচ্ছে এপ্লাই এজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট কন্ট্রাক্টর এবং অপরটি এজ এন এজেন্সী কন্ট্রাক্টর। আপনি নির্বাচন করুন কি হিসেবে আপনি কাজে আবেদন করবেন। তারপর প্রোপোজ টার্মস এ গিয়ে আপনি কত টাকা হলে কাজটি করতে পারবেন তা উল্লেখ করুন। আপফ্রন্ট পেমেন্ট যদি পেতে চান তাহলে ঐ ঘরে লিখে দিন কত টাকা আপনি আগেভাগে চাইছেন। এস্টিমেটেড ডিউরেশন থেকে নির্বাচন করুন কত দিনে কাজটি আপনি শেষ করবেন। কভার লেটারে আপনি আপনার ও আপনার কাজ সম্পর্কে বায়ারকে বলুন। এটি যত সুন্দর হবে বায়ার তত আকর্ষনবোধ করবে আপনাকে কাজটি দেওয়ার জন্য। আপনার আগের কোন কাজ করা থাকলে এটাচমেন্ট অপশনে গিয়ে এটাচ করে দিন। এতে বায়ার আপনার কাজের ধরন ও মান সম্পর্কে ধারণা করতে পারবে। এরপর নিচের বক্সে ক্লিক করে তাদের নীতিমালায় সই করুন এবং এপ্লাই টু দিজ জব এ ক্লিক করুন। তারপর আরেকটা বক্স আসবে। এখানে ইয়েস, আই আন্ডারস্ট্যান্ড এ ক্লিক করুন ও এপ্লাই করুন। ব্যাস, আপনার কাজের জন্য আবেদন পর্ব শেষ এখানেই।
এবার আপনি যদি চান তাহলে আপনি আপনার প্রোপোজ টার্ম এ পরিবর্তন করতে পারবেন। যেটিতে পরিবর্তন করতে চান সেই প্রোজেক্ট এ যান এবং হলুদ রঙ এর প্রোপোজ ডিফারেন্ট টার্মস এ ক্লিক করুন। একটা বক্স আসবে। কি কি পরিবর্তন করতে চান তা করুন। নেক্সট্ বাটনে ক্লিক করুন। নীতিমালা বক্সে ক্লিক করে আবেদন করুন।
বায়ার রেসপন্স করছে না বা অন্য কোন কারণে আপনার আবেদন তুলে নিতে চাচ্ছেন? হ্যা, আপনি তাও করতে পারবেন। প্রথমে, প্রোজেক্ট পেজ এ যান। ওখানে গেলে ডান দিকে হলুদ রঙ এর উইথড্র দিজ এপ্লিকেশন বাটন দেখতে পাবেন। ওখানে ক্লিক করুন। রিজন এ গিয়ে যে কোন একটি কারণ উল্লেখ করুন যে কেন আপনি আবেদন তুলে নিতে চাচ্ছেন। আপনার কোন কিছু লিখার থাকলে আদার্স বাটন ব্যবহার করুন এবং যা লিখতে চান নিচের বক্সে তা লিখুন। সবশেষে, উইথড্র এপ্লিকেশন এ ক্লিক করুন। ব্যাস, আপনার কাজের আবেদন তুলে নেওয়া হল।
“মাই জবস” অপশন
আজকে আমরা দেখবো ওডেস্ক এর “মাই জবস” অপশনটি। এটি খুব গুরুত্তপূর্ণ একটি অংশ। তাই একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন।
“মাই জবস্” এর সর্বপ্রথম অপশনটি হচ্ছে “মাই জবস”। এটি কি খায় নাকি মাথায় দেয়? এমন প্রশ্ন আপনার মনে সঞ্চার হতেই পারে। না এটি খায়ও না মাথায়ও দেয় না। এখান থেকে দেখা যায় কোন কাজটি এখন করছেন। কত টাকায় আপনি কাজটি করছেন। কে আপনাকে এই কাজের জন্য নির্বাচন করেছেন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখানে থেকে জানতে পারবেন। আপনি চাইলে এখান থেকে বায়ারকে ম্যসেজও পাঠাতে পারবেন।
আবার আসুন কন্ট্রাক্ট অপশন এ। এখানে আপনি দেখতে পারবেন কোন বায়ার আপনাকে কোন কাজের জন্য নির্বাচিত করেছিল এবং কাজটি আপনি করছেন। আপনি আরো দেখতে পারবেন কাজটি আপনি কবে শুরু করেছিলেন। কত টাকায় কাজটি করছেন বা আপনার কাজটি কি ফিক্সড্ নাকি ঘণ্টা ভিত্তিক তাও জানতে পারবেন।
ওয়ার্ক ডায়রী অপশনটি মূলত যারা ঘন্টা ভিত্তিক কাজ করেন তাদের জন্যই। এখানে থেকে আপনি দেখতে পারবেন কোন বায়ার এর কাজ আপনি কত ঘন্টা করেছেন। এখানে থেকে মেমো তৈরী ও পরিবর্তন করতে পারবেন। এখন আসি রিপোর্টস অপশনে। এখানে টাইমলগ্স, মাই উইকলি টাইমশীট্স, মাই টাইমশীট ডেতেইলস্, টাইম এনালাইজ নামক বাটন রয়েছেন। টাইমলগ্স থেকে দেখতে পারবেন এই সপ্তাহে আপনি কত কাজ করেছেন আর কত টাকা পেয়েছেন কাজ করে। মাই উইকলি টাইমশীট্স থেকে জানতে পারবেন একজন বায়ার এর জন্য আপনি এক সপ্তাহে কত কাজ করেছেন। মাই টাইমশীট ডিটেইল্স থেকে জানতে পারবেন একটা নির্দিষ্ট সময়ে আপনা দ্বারা কতটুকু কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। টাইম এনালাইজ অপশন আপনাকে দিচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনি কত ঘন্টা কাজ করেছেন বা কত টাকা উপার্জন করেছেন তার রিপোর্ট। এটি পরিবর্তন যোগ্য।
পেমেন্ট মেথোড সিলেকশন ও ট্রানজেকশন
আজকে আমি আলোচনা করবো পেমেন্ট মেথোড সিলেকশন ও ট্রানজেকশন নিয়ে। অর্থাৎ, কিভাবে টাকা পাবেন সেই পদ্ধতি নিয়ে। ওডেস্ক থেকে টাকা পেতে হলে সবার প্রথমে আপনাকে একটি পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে। এই কাজটি করতে হলে ওডেস্কে প্রবেশের পর আপনাকে ওয়ালেট অপশনে যেতে হবে। ওয়ালেট অপশনে দেখুন উইথড্র আর্নিংস অপশন। একটু ডানদিকে দেখুন সেট আপ উইথড্রল মেথোড। এখানে ক্লিক করুন। অনেকগুলো উইথড্র অপশন পাবেন। ওয়্যার ট্রান্সফার, পাইওনিয়ার ডেবিট কার্ড, স্ক্রীল (মানিবুকার্স), পেপ্যাল, ডিরেক্ট ডিপোজিট। এর যে কোন একটি সুবিধাকে আপনি বেছে নিতে পারেন। যেটি আপনার সুবিধা হবে। পেমেন্ট মেথোড নির্বাচন করা হয়ে গেলে উইথড্র বাটনে ক্লিক করুন। আবার আপনাকে একটি বক্স দেখানো হবে যেখানে বলা থাকবে কোন পদ্ধতিতে আপনি টাকা উঠাতে চাচ্ছেন। সেটি নির্বাচন করুন। এরপর টাকার পরিমাণ দিন এবং শেষে আবার উইথড্র দিন। তাহলেই আপনার টাকা আপনার নির্বাচিত পদ্ধতিতে চলে যাবে।
এবার আসি ট্রানজেকশনে। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কবে আপনি কত টাকা পেয়েছেন। কোন কাজের জন্য টাকা পেয়েছেন। কবে আপনি কত টাকা তুলেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আজ এ পর্যন্তই থাক। পরের পর্বে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য এপ্লাই করতে হয়। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন
আজকে আমরা দেখবো কিভাবে একটা পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন করতে হয়। পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড পৃথিবীর যে কোন দেশে সাপোর্ট করে। তাই এটিই সর্বজন স্বীকৃত পেমেন্ট পদ্ধতি। কিন্তু কিভাবে আপনি একটি মাস্টার কার্ড এর মালিক হবেন। প্রথমে পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর ওয়েবসাইটে যান এবং দেখুন এটি আপনার দেশে সাপোর্ট করে কিনা। এরপর ওডেস্ক একাউন্টে প্রবেশ করুন। ওয়ালেট ট্যাব এ যান এবং উইথড্রল মেথোড নির্বাচন করুন পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড। এখন পাইওনিয়ার এর ওয়েবসাইটে সাইন আপ লিঙ্ক দেখে এখানে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এখানে আপনার কাছে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, ফোন নাম্বার ইত্যাদি চাইবে। এগুলো ঠিক মত পূরণ করে সাবমিট করে দিন। এখন যদি আপনি অটোমেটিকভাবে ওডেস্ক এর পেজে না গিয়ে থাকেন তাহলে পুনরায় ওডেস্ক এর উইথড্র মেথোড পেজ এ যান এবং “এনাবল পাইওনিয়ার” বাটন এ ক্লিক করুন। মাত্র চার দিনের মধ্যে আপনার পেমেন্ট পদ্ধতি পাইওনিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হবে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আপনার কার্ড আপনার ঠিকানা অনুযায়ী পৌছে যাবে। সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
প্রোফাইল তৈরী করা
প্রোফাইল তৈরী করার জন্য প্রথমেই আপনার ওডেস্ক একাউন্টে লগ ইন করতে হবে। লগ ইন করার পর প্রথমেই দেখতে পাবেন “Create Your Profile” অপশন। ওখানে ক্লিক করুন।
প্রথমেই দেখতে পাবেন “display name as” অপশন। মানে আপনি কি আপনার নাম পুরোটা দিবেন নাকি অর্ধেক দিবেন তাই। তারপর যথাক্রমে প্রোফাইল পিকচার আপলোড, আপনার কাজের বা কোম্পানির টাইটেল নেম এবং আপনার বা আপনার কোম্পানির সম্পর্কে বর্ণনা, আওয়ারলী আপনার রেট দিতে হবে। তারপর আপনার ইংরেজী লেভেল, কোন ধরনের কাজ আপনি চাইছেন, প্রোফাইল ভিসিবিলিটি, ঠিকানা, শহর, দেশ, পোস্টাল কোড, ফোন নাম্বার দিয়ে “save profile and continue” বাটনে ক্লিক করতে হবে।
এখন হয়ে গেলো আপনার ওডেস্কের জন্য খুব সুন্দর ও আকর্ষনীয় প্রোফাইল। কেননা, একটি ভালো প্রোফাইলই পারে আপনাকে দ্রুত ও ভালো কাজ পাইয়ে দিতে।
১০০% প্রোফাইল সম্পূর্ণকরণ
আপনার প্রোফাইল ৩০% সম্পূর্ণ হয়েছিল। আজকে আমরা দেখবো, কিভাবে প্রোফাইলকে ১০০% সম্পূর্ণ করতে হয়।
ওডেস্কে প্রবেশ করার পর আমরা “complete profile” নামক অপশন দেখবো। সেখানেই প্রথমে ক্লিক করুন। এখানে গিয়ে প্রথমে আপনাকে আপনার “skill” যোগ করতে হবে। স্কিল বলতে, আপনি কোন কাজে পারদর্শী তা বোঝায়। তারপর আসবে, আপনার “employment history”। এখানে আপনাকে দিতে হবে আপনি কোথাও কাজ করেছেন কিনা বা করলেও কবে করেছেন, কোথায় করেছেন তা দিতে হবে। তারপর “education section” এ এসে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যোগ করতে হবে।
এবার আসুন “portfolio” অপশনে। এখানে আপনি আপনার পূর্বের তৈরী করা কোন কাজ স্যাম্পল হিসেবে যোগ করতে পারবেন। যেমনঃ আপনি আর্টিকেল লিখতে পারদর্শী। তাই, পূর্বে আপনার লিখা কোন আর্টিকেল থাকলে এখানে তা যুক্ত করে দিন।
পরের অংশে দেখাবো কিভাবে বাকী কাজ সম্পন্ন করে আপনার প্রোফাইল ১০০% সম্পূর্ণ করবেন।
আপনার যদি কোন সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে “certificate option” এ এসে তা যুক্ত করে দিন। অন্য কোন অভিজ্ঞতা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে “other experience section” এ এসে তা যুক্ত করে দিন।
সবার শেষে আপনাকে “odesk readiness test” দিতে হবে। এই পরীক্ষায় যদি আপনি পাশ করেন তাহলে আপনার কাজ পাবার কোটা বেড়ে যাবে এবং প্রোফাইলও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। ওডেস্ক টেস্ট না দিলে আপনি মাত্র দুটি কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর ওডেস্ক টেস্টে পাশ করলে দশটি কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই টেস্ট দিতে হবে আপনাকে ৪০ মিনিট সময়ের মধ্যে। ১১ টি প্রশ্ন থাকবে। যার সবগুলো উত্তর সঠিকভাবে দিতে হবে।
এভাবে উপরের বর্ণনানুযায়ী কাজ করতে পারলে আপনার প্রোফাইল ১০০% সম্পূর্ণ হতে যাবে। আর, মনে রাখবেন, ১০০% সম্পূর্ণ প্রোফাইল ই হচ্ছে দ্রুত ও ভালো কাজ পাবার নিশ্চয়তা।
এই বিষয়ে আরো জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন।
ইউজার সেটিংস পরিচিতি ও আইডি ভেরীফিকেশন
আজকে আমরা দেখবো ইউজার সেটিংস ও কিভাবে আইডি ভেরীফিকেশন করতে হয়।
প্রথমে ওডেস্কে লগ ইন করুন এবং প্রোফাইল লিঙ্ক এ ক্লিক করুন। এবার একটু বাম পাশে লক্ষ্য করুন। নিশ্চয়ই “user settings” দেখতে পাচ্ছেন। এখানে দেখুন “contact info”। এখান থেকে আপনি আপনার যোগাযোগের তথ্যগুলো দেখতে পাবেন। যেমনঃ আপনার নাম, ইমেইল, কোম্পানি নাম ইত্যাদি। এবার আসুন, “my contractor profile”। এখানে আপনি আপনার কন্ট্রাক্টর প্রোফাইল এর যাবতীয় তথ্য দেখতে পাবেন।
এবার দেখুন, মাই টিমস। আপনি যদি কোন টিমের সদস্য হয়ে থাকেন বা আপনার নিজের কোন টিম থাকলে সবার কার্যক্রম এখান থেকে দেখতে পারবেন। মাই টেস্টস অপশন থেকে আপনি কি কি টেস্ট দিয়েছেন বা কোন টেস্টে কত নাম্বার পেয়েছেন এই সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনার যদি এক বা একাধিক একাউন্ট থাকে তাহলে তা আপনি লিঙ্কড একাউন্ট থেকে দেখতে পারবেন। চাইলে এই অপশন ব্যবহার করে আপনি আপনার ফেসবুক বা টুইটার একাউন্ট দিয়েও ওডেস্কে লগ ইন করতে পারবেন।
চেঞ্জ পাসওয়ার্ড অপশনে গিয়ে আপনি আপনার বর্তমান পাসওয়ার্ডটি পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি যদি অন্য কোন কম্পিউটার থেকে আপনার একাউন্ট এ প্রবেশ করতে চান তাহলে একটা সিকিউরিটি প্রশ্ন চাইবে। তাই সিকুরিটি কোয়েশ্চেন অপশন এ গিয়ে খুব সহজেই আপনার সিকিউরিটি প্রশ্ন ও তার উত্তর যুক্ত করতে পারবেন।
এবার আসি আইডি ভেরীফিকেশন এ। আপনার হোম্পেজ এর ডানদিক থেকে ভেরীফাই ইউর আইডেন্টিটি অপশন এ ক্লিক করুন। এখানে গিয়ে রেডী এন্ড গেট স্টার্টেড বাটনে ক্লিক করে আপনার পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট এর স্ক্যান করা কপি ও আপনার ব্যাংক একাউন্ট বা বাড়ীর বিল এর স্ক্যান করা কপি আপলোড করে আপনার আইডি ভেরীফাই করতে পারবেন। এতে আপনার প্রোফাইল সুন্দর ও হবে এবং আপনার কাজে আবেদন করার সংখ্যাও বেড়ে যাবে।
কাস্টোমার সাপোর্ট এবং ওডেস্ক টিম এপ্লিকেশন
আমরা দেখবো কিভাবে ওডেস্ক এর কাস্টময়ার সাপোর্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে পারি, কিভাবে ওডেস্ক এর টিম এপ্লিকেশন সফটওয়্যার ডাউনলোড করবো এবং কিভাবে এর ব্যবহার করতে হয়।
প্রথমেই কাস্টোমার সাপোর্ট এর ব্যাপারে আসি। ওডেস্ক এ প্রবেশের পর ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে অল ম্যাসেজ এ ক্লিক করুন। এখানে টিকেট নামক একটা অপশন পাবেন। ঐখানে ক্লিক করুন। দেখুন তো সাবমিট টিকেট নামে কোন বাটন দেখতে পাচ্ছেন কিনা। হ্যা, ঠিক বাটনেই ক্লিক করেছেন। এবার, টপিক সিলেক্ট করুন। তারপর সাবটপিক সিলেক্ট করুন। আবার আপনি ওডেস্ক এর কাস্টোমার সাপোর্ট এর সাথে লাইব চ্যাট করতে পারেন। এভাবে আপনার সম্যসার কথা জানাতে পারেন। আপনার সমস্যা যদি খুব জটিল হয় যে, আপনি লাইভ চ্যাটে সমাধান করতে পারছেন না তাহলে ক্রিয়েট এ সাপোর্ট টিকেট এ ক্লিক করুন। আপনার সমস্যার কথা জানানোর ৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব পাবেন।
এবার ওডেস্ক টিম এপ্লিকেশন নিয়ে কিছু কথা। প্রথমেই, আপনার ডানদিক এর নিচ থেকে এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে নিন এবং আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করে নিন। ওডেস্কে দুই ধরনের কাজ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে ফিক্সড জব এবং অপরটি আওয়ারলী বা ঘণ্টা অনুযায়ী কাজ। আপনি যদি ঘন্টানুযায়ী কাজ করতে চান তাহলে এই এপ্লিকেশন সফটওয়্যারটি আপনার জন্যেই। এটিতে লগ ইন করার পর আপনি যে বায়ারের কাজ ঘন্টনুযায়ী করবেন তার আইডি সিলেক্ট করুন এবং টাইম ট্র্যাকার চালু করে দিন। টাইম ট্র্যাকার চালু করতে স্টার্ট বাটন ও বন্ধ করতে হলে স্টপ বাটনে ক্লিক করুন। এখানে, আপনার কাজের প্রমাণস্বরূপ কিছুক্ষন পরপর স্ক্রীণশট নেওয়া হবে, তাই এটি চালু করে অন্য কাজ করতে গেলে সাবধান। কেননা, আপনি নিজেও জানেন না বায়ার কখন স্ক্রীণশট নেবে। আজ এ পর্যন্ত। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানান।
কিভাবে আপনার পছন্দনুযায়ী কাজ খুঁজবেন
আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে আপনি আপনার সামর্থ্য আনুযায়ী ভালো কাজ খুঁজে নিবেন ও তা করবেন। নিশ্চয়ই আপনি আপনার কাজের নমুনা দিয়েছেন এবং আপনার কাজের বিভাগগুলিও নির্বাচন করেছেন। ওডেস্কে কাজ খুঁজার জন্য আপনি দুটি পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারবেন। প্রথমটি হচ্ছে, কী ওয়ার্ড দিয়ে কাজ খোঁজা। ওডেস্কে প্রবেশ করার পর আপনার হোমপেজেই দেখতে পারবেন সা...র্চ বাই কী ওয়ার্ড অপশন। এখানে আপনি আপনার কাজের নাম দিয়ে সার্চ করতে পারবেন। আপনি যদি আর্টিকেল রাইটার হন তাহলে শুধু আর্টিকেল বা আর্টিকেল রাইটিং লিখে সার্চ করতে পারেন। এরপর আপনাকে বিভিন্ন কাজ দেখানো হবে। কাজ পছন্দ হলে বিড করবেন।
আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, এডভান্সড সার্চ অপশন। এখান থেকে আপনি আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করে কাজ পেতে পারেন। এডভান্সড সার্চ করার জন্য সার্চ বাই কী ওয়ার্ড এর পাশে এডভান্সড অপশনে ক্লিক করুন। এখান থেকে আপনি সর্ট বাই বাটন প্রেস করে কোন্টি নতুন কাজ, কোন্টি পুরাতন, কোন্টি বেশী টাকা দিবে এমন কাজ পছন্দ করতে পারবেন। জব স্ট্যাটাস থেকে দেখতে পারবেন কোন কাজটি খোলা রয়েছে বা কোন্টি বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের কাজ খোজার পর্ব এখন শেষ। আবার কাজ নির্বাচন করার পালা যে কোন কাজটি আপনি ভালোভাবে করতে পারবেন। সার্চ রেজাল্ট আসার পর প্রতিটি কাজ দেখুন। কোন্টির জন্য আপনি বেশী যোগ্য। কাজে বিড করার পূর্বে দেখে নিন বায়ার কত টাকা ইতিমধ্যে খরচ করেছে, বায়ার এর রেটিং কেমন, বায়ার নতুন না পুরাতন, বায়ার এর পেমেন্ট পদ্ধতি ভেরীফাই করা আছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো সবকিছু যদি আপনার সাথে মিলে যায় তাহলে তাহলে ওই কাজের জন্যই বিড করুন।
এভাবেই নিয়মগুলো অনুসরন করতে পারলে আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজ খুঁজে বের করতে পারবেন এবং সব কিছু দেখে শুনে ঐ কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আশা করি, আপনার কাজ সফল হোক।
কিভাবে কাজে বিড করবেন, বিড পরিবর্তন বা উঠিয়ে নিবেন
আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে আমরা কোন কাজ এ বিড অর্থাৎ কোন কাজ এর জন্য কিভাবে আবেদন করব। কিভাবে আবেদন করা কাজে পরিবর্তন করতে পারবো বা আবেদন করা কাজের আবেদন তুলে নিতে পারবো।
আগের পর্বের মত প্রথমে কাজ খুঁজে নেই। ওই কাজের বর্ণনা সম্বলিত পেজে যাই। ওখানে কি দেখতে পাচ্ছি। নিশ্চয়ই হলুদ রঙ এর এপ্লাই টু দিজ প্রোজেক্ট লিখা দেখতে পাচ্ছি। ঐখানে ক্লিক করি। নতুন পেজ আসলো। আপনি যদি কোন টিম এর সদস্য হয়ে থাকেন তাহলে দুটো অপশন পাবেন। একটি হচ্ছে এপ্লাই এজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট কন্ট্রাক্টর এবং অপরটি এজ এন এজেন্সী কন্ট্রাক্টর। আপনি নির্বাচন করুন কি হিসেবে আপনি কাজে আবেদন করবেন। তারপর প্রোপোজ টার্মস এ গিয়ে আপনি কত টাকা হলে কাজটি করতে পারবেন তা উল্লেখ করুন। আপফ্রন্ট পেমেন্ট যদি পেতে চান তাহলে ঐ ঘরে লিখে দিন কত টাকা আপনি আগেভাগে চাইছেন। এস্টিমেটেড ডিউরেশন থেকে নির্বাচন করুন কত দিনে কাজটি আপনি শেষ করবেন। কভার লেটারে আপনি আপনার ও আপনার কাজ সম্পর্কে বায়ারকে বলুন। এটি যত সুন্দর হবে বায়ার তত আকর্ষনবোধ করবে আপনাকে কাজটি দেওয়ার জন্য। আপনার আগের কোন কাজ করা থাকলে এটাচমেন্ট অপশনে গিয়ে এটাচ করে দিন। এতে বায়ার আপনার কাজের ধরন ও মান সম্পর্কে ধারণা করতে পারবে। এরপর নিচের বক্সে ক্লিক করে তাদের নীতিমালায় সই করুন এবং এপ্লাই টু দিজ জব এ ক্লিক করুন। তারপর আরেকটা বক্স আসবে। এখানে ইয়েস, আই আন্ডারস্ট্যান্ড এ ক্লিক করুন ও এপ্লাই করুন। ব্যাস, আপনার কাজের জন্য আবেদন পর্ব শেষ এখানেই।
এবার আপনি যদি চান তাহলে আপনি আপনার প্রোপোজ টার্ম এ পরিবর্তন করতে পারবেন। যেটিতে পরিবর্তন করতে চান সেই প্রোজেক্ট এ যান এবং হলুদ রঙ এর প্রোপোজ ডিফারেন্ট টার্মস এ ক্লিক করুন। একটা বক্স আসবে। কি কি পরিবর্তন করতে চান তা করুন। নেক্সট্ বাটনে ক্লিক করুন। নীতিমালা বক্সে ক্লিক করে আবেদন করুন।
বায়ার রেসপন্স করছে না বা অন্য কোন কারণে আপনার আবেদন তুলে নিতে চাচ্ছেন? হ্যা, আপনি তাও করতে পারবেন। প্রথমে, প্রোজেক্ট পেজ এ যান। ওখানে গেলে ডান দিকে হলুদ রঙ এর উইথড্র দিজ এপ্লিকেশন বাটন দেখতে পাবেন। ওখানে ক্লিক করুন। রিজন এ গিয়ে যে কোন একটি কারণ উল্লেখ করুন যে কেন আপনি আবেদন তুলে নিতে চাচ্ছেন। আপনার কোন কিছু লিখার থাকলে আদার্স বাটন ব্যবহার করুন এবং যা লিখতে চান নিচের বক্সে তা লিখুন। সবশেষে, উইথড্র এপ্লিকেশন এ ক্লিক করুন। ব্যাস, আপনার কাজের আবেদন তুলে নেওয়া হল।
“মাই জবস” অপশন
আজকে আমরা দেখবো ওডেস্ক এর “মাই জবস” অপশনটি। এটি খুব গুরুত্তপূর্ণ একটি অংশ। তাই একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন।
“মাই জবস্” এর সর্বপ্রথম অপশনটি হচ্ছে “মাই জবস”। এটি কি খায় নাকি মাথায় দেয়? এমন প্রশ্ন আপনার মনে সঞ্চার হতেই পারে। না এটি খায়ও না মাথায়ও দেয় না। এখান থেকে দেখা যায় কোন কাজটি এখন করছেন। কত টাকায় আপনি কাজটি করছেন। কে আপনাকে এই কাজের জন্য নির্বাচন করেছেন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখানে থেকে জানতে পারবেন। আপনি চাইলে এখান থেকে বায়ারকে ম্যসেজও পাঠাতে পারবেন।
আবার আসুন কন্ট্রাক্ট অপশন এ। এখানে আপনি দেখতে পারবেন কোন বায়ার আপনাকে কোন কাজের জন্য নির্বাচিত করেছিল এবং কাজটি আপনি করছেন। আপনি আরো দেখতে পারবেন কাজটি আপনি কবে শুরু করেছিলেন। কত টাকায় কাজটি করছেন বা আপনার কাজটি কি ফিক্সড্ নাকি ঘণ্টা ভিত্তিক তাও জানতে পারবেন।
ওয়ার্ক ডায়রী অপশনটি মূলত যারা ঘন্টা ভিত্তিক কাজ করেন তাদের জন্যই। এখানে থেকে আপনি দেখতে পারবেন কোন বায়ার এর কাজ আপনি কত ঘন্টা করেছেন। এখানে থেকে মেমো তৈরী ও পরিবর্তন করতে পারবেন। এখন আসি রিপোর্টস অপশনে। এখানে টাইমলগ্স, মাই উইকলি টাইমশীট্স, মাই টাইমশীট ডেতেইলস্, টাইম এনালাইজ নামক বাটন রয়েছেন। টাইমলগ্স থেকে দেখতে পারবেন এই সপ্তাহে আপনি কত কাজ করেছেন আর কত টাকা পেয়েছেন কাজ করে। মাই উইকলি টাইমশীট্স থেকে জানতে পারবেন একজন বায়ার এর জন্য আপনি এক সপ্তাহে কত কাজ করেছেন। মাই টাইমশীট ডিটেইল্স থেকে জানতে পারবেন একটা নির্দিষ্ট সময়ে আপনা দ্বারা কতটুকু কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। টাইম এনালাইজ অপশন আপনাকে দিচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনি কত ঘন্টা কাজ করেছেন বা কত টাকা উপার্জন করেছেন তার রিপোর্ট। এটি পরিবর্তন যোগ্য।
পেমেন্ট মেথোড সিলেকশন ও ট্রানজেকশন
আজকে আমি আলোচনা করবো পেমেন্ট মেথোড সিলেকশন ও ট্রানজেকশন নিয়ে। অর্থাৎ, কিভাবে টাকা পাবেন সেই পদ্ধতি নিয়ে। ওডেস্ক থেকে টাকা পেতে হলে সবার প্রথমে আপনাকে একটি পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে। এই কাজটি করতে হলে ওডেস্কে প্রবেশের পর আপনাকে ওয়ালেট অপশনে যেতে হবে। ওয়ালেট অপশনে দেখুন উইথড্র আর্নিংস অপশন। একটু ডানদিকে দেখুন সেট আপ উইথড্রল মেথোড। এখানে ক্লিক করুন। অনেকগুলো উইথড্র অপশন পাবেন। ওয়্যার ট্রান্সফার, পাইওনিয়ার ডেবিট কার্ড, স্ক্রীল (মানিবুকার্স), পেপ্যাল, ডিরেক্ট ডিপোজিট। এর যে কোন একটি সুবিধাকে আপনি বেছে নিতে পারেন। যেটি আপনার সুবিধা হবে। পেমেন্ট মেথোড নির্বাচন করা হয়ে গেলে উইথড্র বাটনে ক্লিক করুন। আবার আপনাকে একটি বক্স দেখানো হবে যেখানে বলা থাকবে কোন পদ্ধতিতে আপনি টাকা উঠাতে চাচ্ছেন। সেটি নির্বাচন করুন। এরপর টাকার পরিমাণ দিন এবং শেষে আবার উইথড্র দিন। তাহলেই আপনার টাকা আপনার নির্বাচিত পদ্ধতিতে চলে যাবে।
এবার আসি ট্রানজেকশনে। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কবে আপনি কত টাকা পেয়েছেন। কোন কাজের জন্য টাকা পেয়েছেন। কবে আপনি কত টাকা তুলেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আজ এ পর্যন্তই থাক। পরের পর্বে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য এপ্লাই করতে হয়। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন
আজকে আমরা দেখবো কিভাবে একটা পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন করতে হয়। পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড পৃথিবীর যে কোন দেশে সাপোর্ট করে। তাই এটিই সর্বজন স্বীকৃত পেমেন্ট পদ্ধতি। কিন্তু কিভাবে আপনি একটি মাস্টার কার্ড এর মালিক হবেন। প্রথমে পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর ওয়েবসাইটে যান এবং দেখুন এটি আপনার দেশে সাপোর্ট করে কিনা। এরপর ওডেস্ক একাউন্টে প্রবেশ করুন। ওয়ালেট ট্যাব এ যান এবং উইথড্রল মেথোড নির্বাচন করুন পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড। এখন পাইওনিয়ার এর ওয়েবসাইটে সাইন আপ লিঙ্ক দেখে এখানে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এখানে আপনার কাছে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, ফোন নাম্বার ইত্যাদি চাইবে। এগুলো ঠিক মত পূরণ করে সাবমিট করে দিন। এখন যদি আপনি অটোমেটিকভাবে ওডেস্ক এর পেজে না গিয়ে থাকেন তাহলে পুনরায় ওডেস্ক এর উইথড্র মেথোড পেজ এ যান এবং “এনাবল পাইওনিয়ার” বাটন এ ক্লিক করুন। মাত্র চার দিনের মধ্যে আপনার পেমেন্ট পদ্ধতি পাইওনিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হবে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আপনার কার্ড আপনার ঠিকানা অনুযায়ী পৌছে যাবে। সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
এই বিষয়ে আরো জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

