Wednesday, March 27, 2013

আউটসোর্সিং কি ? কেন ? কিভাবে ?

ইদানিং বাংলাদেশে খুব বেশি মাতামাতি হচ্ছে আউটসোর্সিং নিয়ে। রাতারাতি বড়লোক হবার বাহারি ও রকমারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার পায়তারায় মত্ত আছে একটি শ্রেনী। অনলাইনে আয় করার এইসব বাহারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিতও হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার এই ক্ষেত্রটিকে সদ্য সমালোচিত এমএলএম ব্যাবসার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন। বাস্তবে আসলে কি ?

আউটসোর্সিং শব্দটি আমাদের দেশে যে খুব বেশি পরিচিত তা নয়, তবে অসাধু ব্যাবসায়ী আর চটকদার বিজ্ঞাপনের কল্যাণে শব্দটি এখন মানুষের মনে নানা কৌতুহলের জন্ম দিচ্ছে, এবং ইতিমধ্যে বাংলাদেশীদের কাছে অতি পরিচিত শব্দ হিসাবে সমাদৃত হচ্ছে। আবার কারো কারো কাছে নিন্দিত হচ্ছে। কিন্তু এমনটা হবার কথা ছিল না। এখন থেকে দশ বছর আগেও আমাদের দেশের মানুষ এই শব্দটির সাথে পরিচিত ছিল না। তখন যে আউটসোর্সিং এর কাজ হতনা তা নয়, কিন্তু এখনকার মত ছিল না। পরিবর্তনশীল এবং প্রতিযোগীতা মূলক বিশ্বায়নের এই সময়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতার কারনে অর্থনৈতিক বৈশম্য এবং অব্যবস্থাপনার কারনে বেকার সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশও এই পরিস্থিতির স্বীকার। যার ফলে বেকার যুবকদের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষ জীবনের প্রয়োজনে বিকল্প আয়ের পথ খুজছে। এই সুজোগে আউটসোর্সিং শব্দটি বাংলাদেশের মানুষের মাঝে দ্রুত প্রসার লাভ করছে, এবং হয়তো ভবিষ‌্যতে আরও করবে। কিন্তু আসলে কি এই ব্যবস্থার(আউটসোর্সিং) মাধ্যমে এইসকল সমস্যার সমাধান সম্ভব ? এর সঠিক উত্তর হল পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশেই সম্ভব। তবে এর পেছনে অনেকগুলি কিন্তু জড়িত !! যেমন আমাদের দেশে এখন হর হামেশাই শোনা যায় একটি কথা, সহজ উপায়ে অনলাইনে আয়। আমার কথা হল, এত সহজে যদি অনলাইনে কাড়ি কাড়ি ডলার/টাকা কামানো যেত তাহলে পৃথিবী কোটি কোটি মানুষ স্রেফ টাকা উপার্যনের জন্য দিন রাত খাটা খাটুনি বন্ধ করে একখানা কম্পিউটার আর অনলাই কানেকশন নিয় যার যার ঘরে বসে যেত, আর ডলার আয় করত। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একটু ভিন্ন। আসলে আপনার যদি দক্ষতা থাকে তাহলে আউটসোর্সং কেন অন্য যেকোন সেক্টরে আপনি সফল হতে পারেন। আউটসোর্সিংএর ভিন্নতাটুকু হল, এখানে কাজ করা এবং কাজ পাবার স্বাধীনতাটুকু আছে যা আপনি অন্য পেশায় পাবেন না। আর একটা পার্থক্য হল আপনার পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন এখানে পাবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত সম্মানী পাবেন, অন্যান্য পেশায় যার জন্য প্রতিনিয়ত কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে কর্মকর্তাদের মন কাষাকষি লেগেই থাকে, যা আউটসোর্সিং এ নেই। এক কথায় আউটসোর্সিং হল সঠিক কাজ করে সহজ উপায়ে আয় করার একটি কঠিন মাধ্যম। যেখানে সফল হতে হলে আপনাকে প্রথমেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এবং কাজ করার জন্য সঠিক প্লাটফর্মে আসতে হবে।

এবার জেনে নেই আউটসোর্সিং কি ?
আউটসোর্সিং তথা ফ্রিল্যান্সিং শব্দের মূল অর্থ হল মুক্ত পেশা। অর্থাৎ মুক্তভাবে কাজ করে আয় করার পেশা। আর একটু সহজ ভাবে বললে, ইন্টারনেটের ব্যাবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কাজ করিয়ে নেয়। নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে এসব কাজ করানোকে আউটসোর্সিং বলে। যারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে দেন, তাঁদের ফ্রিল্যান্সার বলে।

এখন এই কাজগুলি কি ? 
আউটসোর্সিং সাইট বা অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজগুলো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা থাকে। যেমন: ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্কিং ও তথ্যব্যবস্থা (ইনফরমেশন সিস্টেম), লেখা ও অনুবাদ, প্রশাসনিক সহায়তা, ডিজাইন ও মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা (Customer Service), বিক্রয় ও বিপণন, ব্যবসাসেবা ইত্যাদি। এইসকল কাজগুলি ইন্টারনেট ব্যাবস্থার মাধ্যমে করে দিতে পারলেই অনলাইনে আয় করা সম্ভব। এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরনের উন্নত ধরনের কাজ করারও ব্যাবস্থা আছে আউটসোর্সিং জগতে। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব‌্যাবসায়ী সাধারণ মানুষকে ধোকা দিয়ে নানা পদ্ধতির মাধ্যমে আউটসোর্সিং করে আয় করার সহজ উপায়ের নামে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। বাস্তবে উপরে উল্লিখিত কাজগুলো অথবা এইরকম কারিগরি কাজে দক্ষতা থাকলেও কেবল আউটসোর্সিং জগতে ভাল আয় করা সম্ভব। কোনপ্রকার দক্ষতা ছাড়া এবং আউটসোর্সিং সম্পর্কে ভাল জানাশোনা না থাকলে ধোকা খাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাই। তাই আগে কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরী করেন, তারপর এই পেশায় আসুন। ছোট্র করে বলে রাখি, আপনি যে কাজই জানেন, তা যদি মানুষের কাজে আসতে পারে বলে আপনার মনে হয়, মনে রাখবেন অনলাইনের মাধ্যমে এই কাজটুকু করেই আপনি আয় করতে পারেন। শুধু দরকার সঠিক দিক নির্দেশনা, এবং যে কাজটুকু করবেন তা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা।

এবার আসব আউটসোর্সিং কেন করবেন ? কিভাবে করবেন ?
আমাদের দেশে তথা বিশ্বের সকল দেশেই আউটসোর্সিং জগতে কাজ করে এমন অনেক মানুষ রয়েছে। কিন্তু তাদের সবাই শতভাগ সফল হতে পারে না। মনে রাখবেন আউটসোর্সিং যেহেতু মুক্ত পেশা, সেখানে আপনার জবাবদিহিতার চেয়ে আপনার কাজের জবাবদিহিতা বেশি। আপনি এই জগতে আসবেন অবশ্যই উপার্যন করার জন্য, এবং আপনি যার কাছ থেকে এই উপার্জনটুকু নিবেন তাকে কোন না কোন সেবা প্রদান করেই এই উপার্যনটুকু করবেন। সুতরাং আপনার কাজ যদি সঠিক না হয়, আপনার কাজে যদি জবাবদিহিতা না থাকে, আপনি যদি কাজ করার ক্ষেত্রে মনযোগী না হন, আপনার কাজে যদি স্বচ্ছতা না থাকে তাহলে আপনি এই সেক্টরে সফল হতে পারবেন না। আউটসোর্সিং এ সবসময় আপনি নিজেকে দিয়ে মূল্যায়ন করবেন। অর্থাৎ আপনি নিজে যদি এই কাজটি (যে কাজটির জন্য আপনি মনোনিত হয়েছেন) অন্য কাউকে দিয়ে করাতেন তাহলে তার কাছ থেকে আপনি কি আশা করতেন, এবং অবশ্যই তার চেয়ে একটু বেশিই দেবার চেষ্টা করবেন। তাহলে যে আপনাকে দিয়ে কাজ করাবে সেও খুশি থাকবে আপনার কাজ পাবার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।

কাজ পাবেন যেখানে: 
আউটসোর্সিংয়ের কাজ পাওয়া যায় এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে। আবার ভুয়া সাইটও বের হয়েছে। ফলে সতর্ক হয়েই কাজ শুরু করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সাইটের ঠিকানা দেওয়া হলো— www.odesk.com, www.freelancer.com, www.elance.com, www.getacoder.com, www.guru.com, www.vworker.com, www.scriptlance.com ইত্যাদি। সবগুলো মোটামুটি একই রকম। অনেকে বলে থাকেন কোন কোন সাইটগুলো ফেইক তা কেন কেউ বলে না ? একটি যৌক্তিক প্রশ্ন, আসল কথা হল এই জগতে আসলের নকলের সংখ্যাই বেশি। তেমনি ফেইক সাইট এত বেশি যে, তা লিখে শেষ করা যাবে না। তাই যেগুলো পরিক্ষীত সেই সাইটগুলোর কথা লেখা হল। এর বাইরে না তাকানোই মঙ্গল।

পিটিসি সাইট কি : 
পিটিসি সাইটের ব্যাপারে অনেকে বলে থাকেন। আসল কথা হল পিটিসি সাইট মানেই ভুয়া সাইট। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ পিটিসি সাইট আছে যেগুলো ক্লিক করলেই ডলার আয়ের লোভনীয় অফার দিয়ে ইন্টারনেট জগতে প্রতারনা করে আসছে। আসল কথা হল কোন পিটিসি সাইটই টাকা দেয় না। সুতরাং অযথা সময় নষ্ট না করে সঠিক উপায় টাকা উপার্যন করুন।

আউটসোর্সিং এর নামে এমএলএম : 
আউটসোর্সিং মানেই হল মুক্ত পেশা। আর এমএলএম হল দায়বদ্ধতার পেশা। আর একটা পার্থক্য হল, আউটসোর্সিং এর কাজ পেতে কাউকে টাকা দিতে হয় না, শুধু কাজের বিনিময়ে টাকা পাওয়া যায়, আর এমএলএম হল মানুষের কাছ থেকে টাকা এনে অন্যের পকেটে তা জমা রেখে মানুষের পেছনে পেছনে ঘুরা। সুতরাং এই দুই জগত কখনো এক হবে পারে না। ইদানিং বাংলাদেশে একাধিক কোম্পানী বেড়িয়েছে যারা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আউটসোর্সিং কে পণ্য হিসাবে ব্যাবহার করছে। বাস্তব কথা হল এরা প্রকৃত ধোকাবাজ, স্রেফ মানুষকে ধোকা দিয়ে টাকা কামানোর ধান্দায় এইসকল ব্যাবসায়ীরা মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। আসলে তারা আউটসোর্সিং করছে না। সুতরাং এদের কাছ থেকে নিরাপদ দুরত্বে থাকুন। আর একটি তথ‌্য দিয়ে রাখি, এই সকল কোম্পানী যারা করেছে, তারা অতীতে কোন না কোন এমএলএম কোম্পানীর সাথে জড়িত ছিল, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেখানে ভাল কিছু করতে পারছে না বিধায় এই নতুন ফন্দির পসরা নিয়ে বসেছে, তাই এদের সম্মিলিত ভাবে বয়কট করুন।

আউটসোর্সিং এর আরও কিছু কাজের ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচে দিলাম। চেষ্টা করে দেখতে পারেন : 
অ্যামাজন ম্যাকানিকাল টার্ক অতিরিক্ত আয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অ্যামাজনের মেকানিকাল টার্ক বেশ ভালো একটি উপায় হতে পারে। এখানে কাজ করে অবশ্য ঘন্টায় কয়েক ডলারের বেশি আয় করা সম্ভব নয়। তবে এখানে পর্যাপ্ত পরিমানে কাজ রয়েছে। এখানকার বেশির ভাগ কাজ গুলোই শেষ করতে এক মিনিটের চেয়ে কম সময় লাগে। আর এ জন্য আপনি পেতে পারেন কয়েক পেনি করে। এখানে কাজ করে বেশি অর্থ উপার্জন না করা গেলেও হাত খরচের টাকা অনায়াশেই তোলা সম্ভব।

নিজস্ব সংগ্রহের ছবি বিক্রি অনলাইনে আপনি নিজের সংগ্রহের ছবি বিক্রি করতে পারেন। এ ধরণের আরো অনেক সাইট রয়েছে। তবে নিজের সংগ্রহ অনলাইনে দেয়ার আগে কোন ধরণের ছবির চাহিদা ভালো সেটা যাচাই করে নিন। ছবি নিয়ে যারা কাজ করতে ভালোবাসেন তাদের পক্ষেও অনেক সাইট কাজ করে থাকে। জনপ্রিয় অনেক ছবিই কম্পিউটারের সহযোগিতায় তৈরী করা হয়েছে। তাই দেরি না করে তিনটি সুন্দর ছবি নিয়ে istockPhoto সাইট এ পরিদর্শনের জন্য পাঠাতে বসে যান। এতে সাইন আপ করলেই ছবি পাঠানোর সুযোগ পাবেন।

ফ্রিল্যান্স আর্টিকেল লেখক এ ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা খুব বেশি না হলেও এর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ২০০ থেকে ৩০০ শব্দের একটি আর্টিকেল লিখেই আর্টিকেল ডিরেক্টরিতে পাঠিয়ে দিতে পারেন। ব্লগার, বিপননকারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ অনেকেই এর গুরুত্বপূর্ন গ্রাহক। আপনি বেশ কয়েকটি আর্টিকেল এক সঙ্গে লিখে প্যাকেজ হিসেবেও এক বা একাধিক গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রতি শব্দ ভিত্তিক মূল্য ধরেও গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আর্টিকেল লেখা যেতে পারে। গ্রাহকের কাছ থেকে কোন নির্দেশ না পেলে এক্ষেত্রে সফলতার জন্য Online Writing Jobs, PoeWar Freelance Jobs এবং Writing.com. এর মতো ওয়েব সাইটগুলো ভিজিট করা যেতে পারে।

অডিও শুনে লেখা কাজটি বেশ সহজ হলে এতে পারিশ্রমিকের পরিমান খুব বেশি নয়। তবে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে এটিও একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ কাজ শুরু করতে oDesk সাইনআপ করা যেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির ফোরামে আপনার নিজের কাজের আগ্রহ সম্পর্কে জানাতে পারেন। এজন্য অবশ্য শোনার দক্ষতা এবং ইংরেজি ভাষাতে যথেষ্ট দক্ষতা থাকা একান্ত জরুরী।

ehow.com এ আর্টিকেল লিখে আয় আপনার যদি keyword research এর মৌলিক বিষয়গুলো জানা থাকে তাহলে প্রতি মাসে eHow তে আর্টিকেল লিখে আপনি বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমানে অর্থ আয় করতে পারেন। এতে আপনার তৈরী করা আর্টিকেল থেকে অর্জিত অর্থের এ্কটি অংশ আপনাকে দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিস্ট বিষয়ে আপনি একদিনে একাধিক আর্টিকেলও লিখতে পারেন। এভাবে এক মাস চেষ্টা করুন। গুগলে খোজ করা হয এমন আর্টিকেল লিখতে পারলে আপনি মাসে বেশ ভালো আয় করতে সক্ষম হবেন। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে একবার আপনার লেখা নির্ভাচিত হলে আপনি মাসের পর মাস সেটা থেকে অর্থ পেতে থাকবেন।

কোন পন্যের প্রচারের উপযোগি ভিডিও তৈরী ছোট খাট ভিডিও তৈরী করার শখ অনেকেরই থাকে। অনেক গুরুত্বহীন ভিডিও অনলাইনে পন্য বিক্রির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি নির্বাচন করে সেটার উপযোগি ভিডিও তৈরী করে ইউটিউবে ছেড়ে দিন। ভিডিওতে পন্যটির লিঙ্ক দিয়ে দিন। ভিডিওটি শেষে ৩০ সেকেন্ডের একটি স্টিল ফ্রেমে পন্য টি কেনার ঁৎষ দিয়ে দিন। আপনার ভিডিওটি তথ্যসমৃদ্ধ, ফানি এবং প্রয়োজনীয় প্রমানিত হলে আপনিও কিছু পন্য বিক্রি করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে পরামর্শ হলো প্রতিটি পন্য বিক্রির পর ভালো অর্থ পাওয়া যায় এমন পন্যই প্রচারণার জন্য বেছে নেয়া উচিত।

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আয় নিজের তেরী কর ওয়েব সাইটের মাধ্যমে অন্যে সাইটের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পে-পার-ক্লিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন পন বিক্রির ওয়েবসাইটের প্রচারণার মাধ্যমে আয় করা যায়। যখন একটি পন্য বিক্রি হবে তখন সে বিক্রির একটি অংশ আপনার একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এক্ষেতে মানুষের সমস্যা অনুধাবন করে তাদের কাজের সহায়ক পন্যগুলোকে প্রচারণার উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।

স্থানীয় বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনের সুবিধা ব্যবসায়ীদের সব সয়ই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকের নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই। যাদের রয়েছে তারাও সেটা থেকে আশানুরুপ ফলাফল পাচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট তৈরীর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরকে তাদের ব্যবসা প্রসারে সহায়তা করতে পারেন। আপনার সহযোগিতায় ব্যবসায়ীরা উপকৃত হলে আপনি এর সুফল পাবেন।

প্লাগইন তৈরী করুন এখন বিভিন্ন ব্লগে প্লাগইন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ডপ্রেস শিখে এসব ব্লগারদের কাছে নতুন নতুন প্লাগইন পাঠানোর মাধ্যমেও আয় করা যেতে পারে। এর আয় একেবারে কম নয়। ব্লগারদের চাহিদা অনুযায় প্লাগইন সরবরাহ করার মাধ্যমে একে পূর্নকালীন পেশা হিসেবেও বেছে নেয়া যেতে পারে।

বিশেষ সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠুন আমাদের দেশে পাইরেসি আইন তেমন কার্যকর নয় বলে আমরা ইচ্ছে মতো সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারছি। তাই বলে বিশেষ প্রয়োজনীয় কোন সফটয়্যারের গুরুত্ব কমে যায়নি। এক্ষেত্রে প্রয়েজনীয় সফটওয়্যারে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অনেক সময়ই বিভিন্ন কোম্পানিকে বড় ধরণের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। তাই সফটওয়্যারে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করে আপনার জানার বিষয়টি মানুষকে জানিয়ে দিন। প্রয়োজনে তারাই আপনাকে খুজে নেবে।

লোগো ডিজাইন করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিন ডিজাইন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকলে বিভিন্ন কোম্পানির চাহিদা মাথায় রেখে লোগো তৈরী করে ওয়েবে দিতে পারেন। 99 designs এমনই একটি স্থান যেখানে আপনি নিজের তৈরী করা লোগো পাঠাতে পারেন। সেখানে অনেকেই বিভিন্ন ধরণের লোগো জমা দিয়ে রাখেন। তাই সেখানে জমা দেয়ার পরপরই আপনার লোগো অন্যের পছন্দ হবে এনটা ভাবার কোন কারণ নেই। অনেকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আপনার লোগোটি বিজয়ী হলে আপনি এর পুরষ্কার পাবেন। নবীন ডিজাইনারদের জন্য এটি বেশ ভালো একটি সুযোগ হতে পারে।

টুইটারের পটভূমি এবং ই-কভার তৈরী করুন এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বেশ তীব্র। তবে আপনার যদি উদ্ভাবনী ক্ষমতা থাকে তাহলে অতিরিক্ত আয়ের এটি একটি ভালো উপায় হতে পারে। আপনি চিত্র শিল্পী হলে তো এক্ষেত্রে আপানার রয়েছে বাড়তি সুবিধা। প্রতিটি ডিজাইন তৈরীর সময়ই এর একটি কারণ মাথায় রাখুন। এ বিষয়টি ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করতে ইতি বাচক ভুমিকা পালন করবে। টুইটার পটভ’মির চাহিদা এখন তেমনটা নেই। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে How to creat your own Twitter Background পড়তে পারেন।

এই বিষয়ে আরো জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

Tuesday, March 26, 2013

Odesk (ওডেস্ক)

কিভাবে ওডেস্কে একটি একাউন্ট তৈরী করবেন
ফ্রীল্যান্সিং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং সুন্দর পেশা। এর মাধ্যমে যে কেউই সামান্য চেষ্টা করে ভালো উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু কাজ জানলেই কাজ কিভাবে পাবেন? এর নিশ্চয়তা কি? চিন্তার কিছু নেই, আছে ওডেস্ক। নিশ্চয়ই, প্রশ্ন জেগেছে মনে ওডেস্ক কি? ওডেস্ক হচ্ছে সবচেয়ে বড় ফ্রীল্যান্সিং প্লাটফরম যারা ফ্রীল্যান্সারদের কাজ পেতে এবং বায়ারদের কাজ করিতে নিতে সাহায্য করে। তা আজকে আমরা আলোচনা করছি কিভাবে একটি ওডেস্ক প্রোফাইল তৈরী করা যায় এবং তাতে সম্পূর্ণতা দান করা যায়।
প্রথমেই ওডেস্কে সাইন আপ করতে হলে একটি ইমেইল একাউন্ট লাগবে। যদি থাকে ভালো আর না থাকলে এখান যাবতীয় তথ্য পূরণ করে একটি ইমেইল একাউন্ট তৈরি করে নিতে পারেন।
তারপর ওডেস্কে যান এবং “I Nedd a Job” অপশন এ গিয়ে সাইন আপ বাটন প্রেস করুন। তারপর ওখানে যেই বিষয়গুলো দরকার সেই সব বিষয়গুলোর ফাঁকা ঘর পূরণ করে “Get Started” বাটনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার ইমেইল এ গিয়ে ইমেইল ভেরিফিকেশন করুন। ব্যাস, হয়ে গেল একটি ওডেস্ক ফ্রীল্যান্সার একাউন্ট।

প্রোফাইল তৈরী করা
প্রোফাইল তৈরী করার জন্য প্রথমেই আপনার ওডেস্ক একাউন্টে লগ ইন করতে হবে। লগ ইন করার পর প্রথমেই দেখতে পাবেন “Create Your Profile” অপশন। ওখানে ক্লিক করুন।
প্রথমেই দেখতে পাবেন “display name as” অপশন। মানে আপনি কি আপনার নাম পুরোটা দিবেন নাকি অর্ধেক দিবেন তাই। তারপর যথাক্রমে প্রোফাইল পিকচার আপলোড, আপনার কাজের বা কোম্পানির টাইটেল নেম এবং আপনার বা আপনার কোম্পানির সম্পর্কে বর্ণনা, আওয়ারলী আপনার রেট দিতে হবে। তারপর আপনার ইংরেজী লেভেল, কোন ধরনের কাজ আপনি চাইছেন, প্রোফাইল ভিসিবিলিটি, ঠিকানা, শহর, দেশ, পোস্টাল কোড, ফোন নাম্বার দিয়ে “save profile and continue” বাটনে ক্লিক করতে হবে।
এখন হয়ে গেলো আপনার ওডেস্কের জন্য খুব সুন্দর ও আকর্ষনীয় প্রোফাইল। কেননা, একটি ভালো প্রোফাইলই পারে আপনাকে দ্রুত ও ভালো কাজ পাইয়ে দিতে।

১০০% প্রোফাইল সম্পূর্ণকরণ
আপনার প্রোফাইল ৩০% সম্পূর্ণ হয়েছিল। আজকে আমরা দেখবো, কিভাবে প্রোফাইলকে ১০০% সম্পূর্ণ করতে হয়।
ওডেস্কে প্রবেশ করার পর আমরা “complete profile” নামক অপশন দেখবো। সেখানেই প্রথমে ক্লিক করুন। এখানে গিয়ে প্রথমে আপনাকে আপনার “skill” যোগ করতে হবে। স্কিল বলতে, আপনি কোন কাজে পারদর্শী তা বোঝায়। তারপর আসবে, আপনার “employment history”। এখানে আপনাকে দিতে হবে আপনি কোথাও কাজ করেছেন কিনা বা করলেও কবে করেছেন, কোথায় করেছেন তা দিতে হবে। তারপর “education section” এ এসে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যোগ করতে হবে।
এবার আসুন “portfolio” অপশনে। এখানে আপনি আপনার পূর্বের তৈরী করা কোন কাজ স্যাম্পল হিসেবে যোগ করতে পারবেন। যেমনঃ আপনি আর্টিকেল লিখতে পারদর্শী। তাই, পূর্বে আপনার লিখা কোন আর্টিকেল থাকলে এখানে তা যুক্ত করে দিন।
পরের অংশে দেখাবো কিভাবে বাকী কাজ সম্পন্ন করে আপনার প্রোফাইল ১০০% সম্পূর্ণ করবেন।
আপনার যদি কোন সার্টিফিকেট থেকে থাকে তাহলে “certificate option” এ এসে তা যুক্ত করে দিন। অন্য কোন অভিজ্ঞতা যদি আপনার থেকে থাকে তাহলে “other experience section” এ এসে তা যুক্ত করে দিন।
সবার শেষে আপনাকে “odesk readiness test” দিতে হবে। এই পরীক্ষায় যদি আপনি পাশ করেন তাহলে আপনার কাজ পাবার কোটা বেড়ে যাবে এবং প্রোফাইলও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। ওডেস্ক টেস্ট না দিলে আপনি মাত্র দুটি কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর ওডেস্ক টেস্টে পাশ করলে দশটি কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই টেস্ট দিতে হবে আপনাকে ৪০ মিনিট সময়ের মধ্যে। ১১ টি প্রশ্ন থাকবে। যার সবগুলো উত্তর সঠিকভাবে দিতে হবে।
এভাবে উপরের বর্ণনানুযায়ী কাজ করতে পারলে আপনার প্রোফাইল ১০০% সম্পূর্ণ হতে যাবে। আর, মনে রাখবেন, ১০০% সম্পূর্ণ প্রোফাইল ই হচ্ছে দ্রুত ও ভালো কাজ পাবার নিশ্চয়তা।

এই বিষয়ে আরো জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

ইউজার সেটিংস পরিচিতি ও আইডি ভেরীফিকেশন
আজকে আমরা দেখবো ইউজার সেটিংস ও কিভাবে আইডি ভেরীফিকেশন করতে হয়।
প্রথমে ওডেস্কে লগ ইন করুন এবং প্রোফাইল লিঙ্ক এ ক্লিক করুন। এবার একটু বাম পাশে লক্ষ্য করুন। নিশ্চয়ই “user settings” দেখতে পাচ্ছেন। এখানে দেখুন “contact info”। এখান থেকে আপনি আপনার যোগাযোগের তথ্যগুলো দেখতে পাবেন। যেমনঃ আপনার নাম, ইমেইল, কোম্পানি নাম ইত্যাদি। এবার আসুন, “my contractor profile”। এখানে আপনি আপনার কন্ট্রাক্টর প্রোফাইল এর যাবতীয় তথ্য দেখতে পাবেন।
এবার দেখুন, মাই টিমস। আপনি যদি কোন টিমের সদস্য হয়ে থাকেন বা আপনার নিজের কোন টিম থাকলে সবার কার্যক্রম এখান থেকে দেখতে পারবেন। মাই টেস্টস অপশন থেকে আপনি কি কি টেস্ট দিয়েছেন বা কোন টেস্টে কত নাম্বার পেয়েছেন এই সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনার যদি এক বা একাধিক একাউন্ট থাকে তাহলে তা আপনি লিঙ্কড একাউন্ট থেকে দেখতে পারবেন। চাইলে এই অপশন ব্যবহার করে আপনি আপনার ফেসবুক বা টুইটার একাউন্ট দিয়েও ওডেস্কে লগ ইন করতে পারবেন।
চেঞ্জ পাসওয়ার্ড অপশনে গিয়ে আপনি আপনার বর্তমান পাসওয়ার্ডটি পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি যদি অন্য কোন কম্পিউটার থেকে আপনার একাউন্ট এ প্রবেশ করতে চান তাহলে একটা সিকিউরিটি প্রশ্ন চাইবে। তাই সিকুরিটি কোয়েশ্চেন অপশন এ গিয়ে খুব সহজেই আপনার সিকিউরিটি প্রশ্ন ও তার উত্তর যুক্ত করতে পারবেন।
এবার আসি আইডি ভেরীফিকেশন এ। আপনার হোম্পেজ এর ডানদিক থেকে ভেরীফাই ইউর আইডেন্টিটি অপশন এ ক্লিক করুন। এখানে গিয়ে রেডী এন্ড গেট স্টার্টেড বাটনে ক্লিক করে আপনার পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট এর স্ক্যান করা কপি ও আপনার ব্যাংক একাউন্ট বা বাড়ীর বিল এর স্ক্যান করা কপি আপলোড করে আপনার আইডি ভেরীফাই করতে পারবেন। এতে আপনার প্রোফাইল সুন্দর ও হবে এবং আপনার কাজে আবেদন করার সংখ্যাও বেড়ে যাবে।

কাস্টোমার সাপোর্ট এবং ওডেস্ক টিম এপ্লিকেশন
আমরা দেখবো কিভাবে ওডেস্ক এর কাস্টময়ার সাপোর্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে পারি, কিভাবে ওডেস্ক এর টিম এপ্লিকেশন সফটওয়্যার ডাউনলোড করবো এবং কিভাবে এর ব্যবহার করতে হয়।
প্রথমেই কাস্টোমার সাপোর্ট এর ব্যাপারে আসি। ওডেস্ক এ প্রবেশের পর ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে অল ম্যাসেজ এ ক্লিক করুন। এখানে টিকেট নামক একটা অপশন পাবেন। ঐখানে ক্লিক করুন। দেখুন তো সাবমিট টিকেট নামে কোন বাটন দেখতে পাচ্ছেন কিনা। হ্যা, ঠিক বাটনেই ক্লিক করেছেন। এবার, টপিক সিলেক্ট করুন। তারপর সাবটপিক সিলেক্ট করুন। আবার আপনি ওডেস্ক এর কাস্টোমার সাপোর্ট এর সাথে লাইব চ্যাট করতে পারেন। এভাবে আপনার সম্যসার কথা জানাতে পারেন। আপনার সমস্যা যদি খুব জটিল হয় যে, আপনি লাইভ চ্যাটে সমাধান করতে পারছেন না তাহলে ক্রিয়েট এ সাপোর্ট টিকেট এ ক্লিক করুন। আপনার সমস্যার কথা জানানোর ৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব পাবেন।
এবার ওডেস্ক টিম এপ্লিকেশন নিয়ে কিছু কথা। প্রথমেই, আপনার ডানদিক এর নিচ থেকে এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে নিন এবং আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করে নিন। ওডেস্কে দুই ধরনের কাজ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে ফিক্সড জব এবং অপরটি আওয়ারলী বা ঘণ্টা অনুযায়ী কাজ। আপনি যদি ঘন্টানুযায়ী কাজ করতে চান তাহলে এই এপ্লিকেশন সফটওয়্যারটি আপনার জন্যেই। এটিতে লগ ইন করার পর আপনি যে বায়ারের কাজ ঘন্টনুযায়ী করবেন তার আইডি সিলেক্ট করুন এবং টাইম ট্র্যাকার চালু করে দিন। টাইম ট্র্যাকার চালু করতে স্টার্ট বাটন ও বন্ধ করতে হলে স্টপ বাটনে ক্লিক করুন। এখানে, আপনার কাজের প্রমাণস্বরূপ কিছুক্ষন পরপর স্ক্রীণশট নেওয়া হবে, তাই এটি চালু করে অন্য কাজ করতে গেলে সাবধান। কেননা, আপনি নিজেও জানেন না বায়ার কখন স্ক্রীণশট নেবে। আজ এ পর্যন্ত। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানান।

কিভাবে আপনার পছন্দনুযায়ী কাজ খুঁজবেন
আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে আপনি আপনার সামর্থ্য আনুযায়ী ভালো কাজ খুঁজে নিবেন ও তা করবেন। নিশ্চয়ই আপনি আপনার কাজের নমুনা দিয়েছেন এবং আপনার কাজের বিভাগগুলিও নির্বাচন করেছেন। ওডেস্কে কাজ খুঁজার জন্য আপনি দুটি পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারবেন। প্রথমটি হচ্ছে, কী ওয়ার্ড দিয়ে কাজ খোঁজা। ওডেস্কে প্রবেশ করার পর আপনার হোমপেজেই দেখতে পারবেন সা...র্চ বাই কী ওয়ার্ড অপশন। এখানে আপনি আপনার কাজের নাম দিয়ে সার্চ করতে পারবেন। আপনি যদি আর্টিকেল রাইটার হন তাহলে শুধু আর্টিকেল বা আর্টিকেল রাইটিং লিখে সার্চ করতে পারেন। এরপর আপনাকে বিভিন্ন কাজ দেখানো হবে। কাজ পছন্দ হলে বিড করবেন।
আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, এডভান্সড সার্চ অপশন। এখান থেকে আপনি আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করে কাজ পেতে পারেন। এডভান্সড সার্চ করার জন্য সার্চ বাই কী ওয়ার্ড এর পাশে এডভান্সড অপশনে ক্লিক করুন। এখান থেকে আপনি সর্ট বাই বাটন প্রেস করে কোন্‌টি নতুন কাজ, কোন্‌টি পুরাতন, কোন্‌টি বেশী টাকা দিবে এমন কাজ পছন্দ করতে পারবেন। জব স্ট্যাটাস থেকে দেখতে পারবেন কোন কাজটি খোলা রয়েছে বা কোন্‌টি বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের কাজ খোজার পর্ব এখন শেষ। আবার কাজ নির্বাচন করার পালা যে কোন কাজটি আপনি ভালোভাবে করতে পারবেন। সার্চ রেজাল্ট আসার পর প্রতিটি কাজ দেখুন। কোন্‌টির জন্য আপনি বেশী যোগ্য। কাজে বিড করার পূর্বে দেখে নিন বায়ার কত টাকা ইতিমধ্যে খরচ করেছে, বায়ার এর রেটিং কেমন, বায়ার নতুন না পুরাতন, বায়ার এর পেমেন্ট পদ্ধতি ভেরীফাই করা আছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো সবকিছু যদি আপনার সাথে মিলে যায় তাহলে তাহলে ওই কাজের জন্যই বিড করুন।
এভাবেই নিয়মগুলো অনুসরন করতে পারলে আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী কাজ খুঁজে বের করতে পারবেন এবং সব কিছু দেখে শুনে ঐ কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আশা করি, আপনার কাজ সফল হোক।

কিভাবে কাজে বিড করবেন, বিড পরিবর্তন বা উঠিয়ে নিবেন
আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে আমরা কোন কাজ এ বিড অর্থাৎ কোন কাজ এর জন্য কিভাবে আবেদন করব। কিভাবে আবেদন করা কাজে পরিবর্তন করতে পারবো বা আবেদন করা কাজের আবেদন তুলে নিতে পারবো।
আগের পর্বের মত প্রথমে কাজ খুঁজে নেই। ওই কাজের বর্ণনা সম্বলিত পেজে যাই। ওখানে কি দেখতে পাচ্ছি। নিশ্চয়ই হলুদ রঙ এর এপ্লাই টু দিজ প্রোজেক্ট লিখা দেখতে পাচ্ছি। ঐখানে ক্লিক করি। নতুন পেজ আসলো। আপনি যদি কোন টিম এর সদস্য হয়ে থাকেন তাহলে দুটো অপশন পাবেন। একটি হচ্ছে এপ্লাই এজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট কন্ট্রাক্টর এবং অপরটি এজ এন এজেন্সী কন্ট্রাক্টর। আপনি নির্বাচন করুন কি হিসেবে আপনি কাজে আবেদন করবেন। তারপর প্রোপোজ টার্মস এ গিয়ে আপনি কত টাকা হলে কাজটি করতে পারবেন তা উল্লেখ করুন। আপফ্রন্ট পেমেন্ট যদি পেতে চান তাহলে ঐ ঘরে লিখে দিন কত টাকা আপনি আগেভাগে চাইছেন। এস্টিমেটেড ডিউরেশন থেকে নির্বাচন করুন কত দিনে কাজটি আপনি শেষ করবেন। কভার লেটারে আপনি আপনার ও আপনার কাজ সম্পর্কে বায়ারকে বলুন। এটি যত সুন্দর হবে বায়ার তত আকর্ষনবোধ করবে আপনাকে কাজটি দেওয়ার জন্য। আপনার আগের কোন কাজ করা থাকলে এটাচমেন্ট অপশনে গিয়ে এটাচ করে দিন। এতে বায়ার আপনার কাজের ধরন ও মান সম্পর্কে ধারণা করতে পারবে। এরপর নিচের বক্সে ক্লিক করে তাদের নীতিমালায় সই করুন এবং এপ্লাই টু দিজ জব এ ক্লিক করুন। তারপর আরেকটা বক্স আসবে। এখানে ইয়েস, আই আন্ডারস্ট্যান্ড এ ক্লিক করুন ও এপ্লাই করুন। ব্যাস, আপনার কাজের জন্য আবেদন পর্ব শেষ এখানেই।
এবার আপনি যদি চান তাহলে আপনি আপনার প্রোপোজ টার্ম এ পরিবর্তন করতে পারবেন। যেটিতে পরিবর্তন করতে চান সেই প্রোজেক্ট এ যান এবং হলুদ রঙ এর প্রোপোজ ডিফারেন্ট টার্মস এ ক্লিক করুন। একটা বক্স আসবে। কি কি পরিবর্তন করতে চান তা করুন। নেক্সট্‌ বাটনে ক্লিক করুন। নীতিমালা বক্সে ক্লিক করে আবেদন করুন।
বায়ার রেসপন্স করছে না বা অন্য কোন কারণে আপনার আবেদন তুলে নিতে চাচ্ছেন? হ্যা, আপনি তাও করতে পারবেন। প্রথমে, প্রোজেক্ট পেজ এ যান। ওখানে গেলে ডান দিকে হলুদ রঙ এর উইথড্র দিজ এপ্লিকেশন বাটন দেখতে পাবেন। ওখানে ক্লিক করুন। রিজন এ গিয়ে যে কোন একটি কারণ উল্লেখ করুন যে কেন আপনি আবেদন তুলে নিতে চাচ্ছেন। আপনার কোন কিছু লিখার থাকলে আদার্স বাটন ব্যবহার করুন এবং যা লিখতে চান নিচের বক্সে তা লিখুন। সবশেষে, উইথড্র এপ্লিকেশন এ ক্লিক করুন। ব্যাস, আপনার কাজের আবেদন তুলে নেওয়া হল।

“মাই জবস” অপশন
আজকে আমরা দেখবো ওডেস্ক এর “মাই জবস” অপশনটি। এটি খুব গুরুত্তপূর্ণ একটি অংশ। তাই একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন।
“মাই জবস্‌” এর সর্বপ্রথম অপশনটি হচ্ছে “মাই জবস”। এটি কি খায় নাকি মাথায় দেয়? এমন প্রশ্ন আপনার মনে সঞ্চার হতেই পারে। না এটি খায়ও না মাথায়ও দেয় না। এখান থেকে দেখা যায় কোন কাজটি এখন করছেন। কত টাকায় আপনি কাজটি করছেন। কে আপনাকে এই কাজের জন্য নির্বাচন করেছেন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখানে থেকে জানতে পারবেন। আপনি চাইলে এখান থেকে বায়ারকে ম্যসেজও পাঠাতে পারবেন।
আবার আসুন কন্ট্রাক্ট অপশন এ। এখানে আপনি দেখতে পারবেন কোন বায়ার আপনাকে কোন কাজের জন্য নির্বাচিত করেছিল এবং কাজটি আপনি করছেন। আপনি আরো দেখতে পারবেন কাজটি আপনি কবে শুরু করেছিলেন। কত টাকায় কাজটি করছেন বা আপনার কাজটি কি ফিক্সড্‌ নাকি ঘণ্টা ভিত্তিক তাও জানতে পারবেন।
ওয়ার্ক ডায়রী অপশনটি মূলত যারা ঘন্টা ভিত্তিক কাজ করেন তাদের জন্যই। এখানে থেকে আপনি দেখতে পারবেন কোন বায়ার এর কাজ আপনি কত ঘন্টা করেছেন। এখানে থেকে মেমো তৈরী ও পরিবর্তন করতে পারবেন। এখন আসি রিপোর্টস অপশনে। এখানে টাইমলগ্‌স, মাই উইকলি টাইমশীট্‌স, মাই টাইমশীট ডেতেইলস্‌, টাইম এনালাইজ নামক বাটন রয়েছেন। টাইমলগ্‌স থেকে দেখতে পারবেন এই সপ্তাহে আপনি কত কাজ করেছেন আর কত টাকা পেয়েছেন কাজ করে। মাই উইকলি টাইমশীট্‌স থেকে জানতে পারবেন একজন বায়ার এর জন্য আপনি এক সপ্তাহে কত কাজ করেছেন। মাই টাইমশীট ডিটেইল্‌স থেকে জানতে পারবেন একটা নির্দিষ্ট সময়ে আপনা দ্বারা কতটুকু কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। টাইম এনালাইজ অপশন আপনাকে দিচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনি কত ঘন্টা কাজ করেছেন বা কত টাকা উপার্জন করেছেন তার রিপোর্ট। এটি পরিবর্তন যোগ্য।

পেমেন্ট মেথোড সিলেকশন ও ট্রানজেকশন
আজকে আমি আলোচনা করবো পেমেন্ট মেথোড সিলেকশন ও ট্রানজেকশন নিয়ে। অর্থাৎ, কিভাবে টাকা পাবেন সেই পদ্ধতি নিয়ে। ওডেস্ক থেকে টাকা পেতে হলে সবার প্রথমে আপনাকে একটি পেমেন্ট পদ্ধতি নির্বাচন করতে হবে। এই কাজটি করতে হলে ওডেস্কে প্রবেশের পর আপনাকে ওয়ালেট অপশনে যেতে হবে। ওয়ালেট অপশনে দেখুন উইথড্র আর্নিংস অপশন। একটু ডানদিকে দেখুন সেট আপ উইথড্রল মেথোড। এখানে ক্লিক করুন। অনেকগুলো উইথড্র অপশন পাবেন। ওয়্যার ট্রান্সফার, পাইওনিয়ার ডেবিট কার্ড, স্ক্রীল (মানিবুকার্স), পেপ্যাল, ডিরেক্ট ডিপোজিট। এর যে কোন একটি সুবিধাকে আপনি বেছে নিতে পারেন। যেটি আপনার সুবিধা হবে। পেমেন্ট মেথোড নির্বাচন করা হয়ে গেলে উইথড্র বাটনে ক্লিক করুন। আবার আপনাকে একটি বক্স দেখানো হবে যেখানে বলা থাকবে কোন পদ্ধতিতে আপনি টাকা উঠাতে চাচ্ছেন। সেটি নির্বাচন করুন। এরপর টাকার পরিমাণ দিন এবং শেষে আবার উইথড্র দিন। তাহলেই আপনার টাকা আপনার নির্বাচিত পদ্ধতিতে চলে যাবে।
এবার আসি ট্রানজেকশনে। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কবে আপনি কত টাকা পেয়েছেন। কোন কাজের জন্য টাকা পেয়েছেন। কবে আপনি কত টাকা তুলেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আজ এ পর্যন্তই থাক। পরের পর্বে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য এপ্লাই করতে হয়। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন
আজকে আমরা দেখবো কিভাবে একটা পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন করতে হয়। পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড পৃথিবীর যে কোন দেশে সাপোর্ট করে। তাই এটিই সর্বজন স্বীকৃত পেমেন্ট পদ্ধতি। কিন্তু কিভাবে আপনি একটি মাস্টার কার্ড এর মালিক হবেন। প্রথমে পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর ওয়েবসাইটে যান এবং দেখুন এটি আপনার দেশে সাপোর্ট করে কিনা। এরপর ওডেস্ক একাউন্টে প্রবেশ করুন। ওয়ালেট ট্যাব এ যান এবং উইথড্রল মেথোড নির্বাচন করুন পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড। এখন পাইওনিয়ার এর ওয়েবসাইটে সাইন আপ লিঙ্ক দেখে এখানে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এখানে আপনার কাছে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, ফোন নাম্বার ইত্যাদি চাইবে। এগুলো ঠিক মত পূরণ করে সাবমিট করে দিন। এখন যদি আপনি অটোমেটিকভাবে ওডেস্ক এর পেজে না গিয়ে থাকেন তাহলে পুনরায় ওডেস্ক এর উইথড্র মেথোড পেজ এ যান এবং “এনাবল পাইওনিয়ার” বাটন এ ক্লিক করুন। মাত্র চার দিনের মধ্যে আপনার পেমেন্ট পদ্ধতি পাইওনিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হবে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আপনার কার্ড আপনার ঠিকানা অনুযায়ী পৌছে যাবে। সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

এই বিষয়ে আরো জানার থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

Friday, March 22, 2013

ব্লগস্পট এ কিভাবে একটি ব্লগ তৈরী করবেন

১. একটি gmail account খুলে নিন. এবার blogger.com এ চলে যান. আপনার gmail ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন.
Start Blogging এ ক্লিক করুন



২. Blog Title এর জায়গায় আপনি আপনার ব্লগের নাম দিয়ে দিন.

Blog Address (URL) এটিই হবে আপনার ডোমিন নেম. এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়. সবসময় খেয়াল রাখবেন আপনি যে ধরনের ব্লগ বানাচ্ছেন সেই ধরনের ওয়ার্ড ব্যবহার করবার চেষ্টা করবেন, তাহলে আপনার সাইটটা গুগলে খুঁজে পেতে সহজ হবে. ডোমিন নেমটা যতটা পারা যায় “eye catchy ” করার চেষ্টা করবেন যাতে ভিসিটর আপনের সাইট নেম সহজেই মনে রাখতে পারে.




৩. Choose a stater template
এখান থেকে আপনি আপনার পছন্দ মত একটি ডিজাইন পছন্দ করে নিন. এছাড়াও আপনি গুগল এ সার্চ করলে হাজার হাজার এমন টেম্পলেট পাবেন, পরে সেগুলোর একটা খুঁজে সেটআপ করে নিতে পারবেন. এটা নিয়ে আমি পরে আলোচনা করব. আপাতত আপনি এখান থেকে একটা পছন্দ করে “Continue” বাটন এ ক্লিক করে এগিয়ে যান.


৪. Your blog has been created
এবার “start Posting” বাটনে ক্লিক করুন.



৫. Title এর জায়গায় আপনি যে বিষয়টি লিখতে চান তার title লিখুন. এরপর নিচে details লিখুন. কোনো ছবি যোগ করতে চাইলে “link” এর পাশের বাটনটি ক্লিক করুন এবার আপনার ইচ্ছা মত ছবি যোগ করে দিন.



“Preview” বাটনে ক্লিক করে দেখুন আপনার সব কিছু ঠিক আছে কিনা , যদি ঠিক থাকে “Publish post” বাটন এ ক্লিক করুন.

এবার “View Blog” এ ক্লিক করলে দেখতে পাবেন আপনার একটি ব্লগ তৈরী হয়ে গেছে.


অবশ্যই Comment করে জানাবেন কেমন লাগলো।

Thursday, March 21, 2013

ব্লগ এবং ব্লগিং কি

ব্লগিং ও ব্লগ কি?:

নিজের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু ঘটনা অথবা কোন একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখা বা কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ধারাবাহিক ভাবে লিখার মাধ্যমে ইন্টারনেটে সবার সাথে শেয়ার করা কে বলা হয় ব্লগিং। যেসব ওয়েবসাইটে এই লিখা গুলো প্রকাশ করা হয় তাকে বলে ব্লগ। সাধারণ ভাবে যারা ব্লগ ও ওয়েব সাইট সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা রাখেন না তাদের কাছে ব্লগ ও ওযেব সাইট এর কোন পার্থক্য নেই বা তারা এদের মধ্যে কোন পার্থক্য খুজে পান না। তাদের জ্ঞাতার্থে বলি যে, ব্লগ হল এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে কো্ন ইউজার রেজিস্ট্রেশন করে কোন কিছু লিখতে পারে এবং অন্য কেউ সেই লেখা পড়তে পারে এবং সেই লেখাতে মন্তব্য করতে পারে। এটা হল সাধারণ বিষয় এছাড়া আরো অনেক বিষয় আছে যেগুলোর কারণে ওয়েব সাইট হতে ব্লগ কে সহজে পৃথক করে দেখা হয়।

ব্লগ এর প্রকার ভেদ:

সাধারণ ব্লগ এর কোন প্রকার ভেদ নেই, কিন্তু ব্লগিং করার উদ্দেশ্য বিবেচনা করলে ব্লগ কে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. ব্যক্তিগত ব্লগ (যেখান থেকে কোন আয়ের সম্ভাবনা নেই)।
২. প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগ (এটিও একটি অলাভ জনক ব্লগ)
৩. নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ব্লগ (লাভজনক)।
আমরা যেহেতু ব্লগিং এর মাধ্যমে আয় করতে চাই, তাই এখানে আমি ব্যক্তিগত ব্লগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগ নিয়ে আলোচনা করব না। আমি আলোচনা করব নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ব্লগ নিয়ে। এই নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর ব্লগ ও ব্লগিং নিয়ে আলোচনায় যা থাকবে তা হল:

১. কিভাবে ব্লগ তৈরী করবেন। 
২. কিভাবে বিষয় নির্বাচন করবেন। 
৩. ব্লগ তৈরীর পর করণীয়। 
৪. ব্লগের পারিপার্শিক পরিবেশ। 
৫. পোষ্ট লেখার নিয়ম। 
৬. পোষ্ট কোথায় পাবেন।
৭. কিভাবে লিখলে পোষ্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
৮. আপনার ব্লগে ভিজিটর কোথা থেকে আসবে। 
৯. আপনার ব্লগে ভিজিটর কেন আসবে। 
১০. ভালো ব্লগার হবার জন্য করণীয়। 
১১. কিভাবে আপনার ব্লগ থেকে আয় করবেন।

ব্লগ কোথায় এবং কিভাবে তৈরী করবেন?

অনলাইনে ব্লগ তৈরীর বিভিন্ন ফ্রি এবং পেইড প্লাটফর্ম আছে যেখানে আপনি আপনার নিজের একটি ব্লগ তৈরী করতে পারবেন(লাভজনক)। প্রথমে আসুন আমরা ফ্রি ব্লগের কথা বলি। আমরা যেহেতু ব্লগ থেকে আয় করতে চাই সেহেতু যেখানে আমরা সেই সুযোগ টা বেশি পাবো সেখানেই করব। যেমন ধরুন: ব্লগস্পট বা ব্লগার , উইবলি ইত্যাদি। ব্লগ এবং ব্লগ থেকে আয়ের ক্ষেত্রে আমার কাছে ফ্রি ব্লগ গুলোর মধ্যে এই সাইট দুইটা বেশি ভালো লেগেছে তাই এই দুইটার কথা বললাম। কেননা এই দুইটা সাইটে ব্লগ তৈরী করলে খুব সহজে ম্যানেজ এবং পোষ্ট করা যায়। এবং এই দুইটা সাইটে একটু কষ্ট করতে পারলে এডসেন্স পাওয়া যায়। এখন আপনার যদি এই দুইটা সাইটের থেকে ভালো মানের কোন সাইটের ঠিকানা জানা থাকে যেখানে এডসেন্স পাওয়ার নিশ্চয়তা আছে আপনি সেখানে করতে পারেন। 
এবার আসুন পেইড ব্লগের কথা বলি:
পেইড ব্লগ বলতে আমরা যা বুঝি তা হল, যে ব্লগ আপনাকে টাকা খরচ করে করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে ভালো মানের কোন প্রোভাইডারের কাছ থেকে একটি ডোমেইন কিনতে হবে( .com, .info, .net) এবং আপনার আরো একটি জিনিষ প্রয়োজন সেটি হল হোস্টিং বা যায়গা এক্ষেত্রে আপনি 1জিবি, 2জিবি মোট কথা আপনার ব্লগের সাইজ অনুযায়ী হোস্টিং নিতে পারেন। এখন আপনার ডোমেইন ও হোস্টিং যুক্ত করার সাথে সাথে আপনার ব্লগ তৈরীর প্রায় ৪০% কাজ শেষ। এবার আপনাকে নির্বাচন করতে হবে আপনার ব্লগের গঠন টা কেমন হবে। বর্তমানে ব্লগ তৈরীর জন্য বিভিন্ন রকম সি, এম,এস ইন্টার নেটে ফ্রি পাওয়া যায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: ওয়ার্ডপ্রেস এবং ড্রুপাল তবে আমার কাছে ওয়ার্ডপ্রেস টাই ভালো মনে হয় তাই আমি আপনাদের কে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ব্লগ তৈরীর পরামর্শ দিচ্ছি। এখান থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ডাউনলোড করে আপনার সাইটে ইন্সটল করে নিবেন এবং আপনার পছন্দমত এবং খুবই সাধারণ একটি থিম ব্যবহার করবেন(যাতে লোড হতে বেশি সময় না লাগে) তাহলে আপনার ব্লগ তৈরী হয়ে যাবে। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ব্লগ তৈরী করার সময় বিভিন্ন রকম সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে সেজন্য আপনি এখানে দেখতে পারেন। 
ব্লগের বিষয় নির্বাচন
আমি আলোচনা করব ব্লগের বিষয় নির্বাচন নিয়ে। আপনার ব্লগ এবং ব্লগিং জগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি তাই মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করুন:
বিষয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমে বলতে হয় যে, আপনি কোন বিষয় নিয়ে ব্লগে লিখবেন তাই। এই বিষয় নির্বাচন এর ক্ষেত্রে কিছু বিষয় আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। সেগুলো নিচে দেয়া হল: 
১. অবশ্যই আপনি ব্লগিং এর ক্ষেত্রে একটি মাত্র ব্লগে একটি মাত্র বিষয় নিয়ে লিখবেন। 
২. আপনি সবচেয়ে যে বিষয়ে বেশি বোঝেন এবং বোঝাতে পারেন সেটি নিয়ে লিখবেন। 
৩. সবসময় বিভিন্ন সাইট ভিজিট করে দেখবেন যে, আপনার বিষয়ের কোন জিনিষটির চাহিদা বেশি আপনি সেটি লিখবেন। 
৪. যে বিষয়টি আপনার নিজের কাছে খুব ভালো লাগে সেটি নির্বাচন করবেন। 
৫. একটি বিষয় নিয়ে লিখতে লিখতে হঠাত অন্য বিষয়ে চলে যাবেন না। 
৬. যে বিষয়টি নিয়ে লিখবেন সেটির আপডেটেড ইনফর্মেশন আপনার ব্লগে দেয়ার চেষ্টা করবেন। 
৭. লক্ষ রাখবেন যে, আপনার নির্বাচিত বিষয়টি যেন প্রায় সকল প্রকার ভিজিটরের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

পোষ্ট করার নিয়ম-কানুন

আপনাদের সাথে আলোচনা করতে যাচ্ছি পোষ্ট করার নিয়ম-কানুন নিযে। তাহলে আসুন শুরু করি। 
১. প্রতিটি পোষ্ট কমপক্ষে ১০০-১৫০ শব্দের হলে ভালো হয়। 
২. পোষ্টের মধ্যে কখনো বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করবেন না। তবে খুব প্রয়োজনে ২/১ টি ব্যবহার করা যাবে। 
৩. কখনো অন্য কারো লেখা কপি করবেন না। 
৪. সব সময় ব্লগের নির্বাচিত বিষয় নিয়ে লিখবেন। 
৫. আপনার বিষয় নিয়ে অন্য যারা ব্লগ তৈরী করেছে তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন। 
৬. পোষ্টের মধ্যে যে ভাষা ব্যবহার করবেন তা যেন সব সময় সহজ ও প্রাঞ্জল হয়। 
৭. প্রতিটি পোষ্টের মধ্যে 2/3 জায়গায় অন্য পোষ্টের ব্যাক লিংক করবেন। 
৮. প্রতিটি পোষ্ট লেখার সময় পোষ্টের মধ্যে ৪/৫ জায়গায় আপনার ব্লগের ৪/৫ টি কিওয়ার্ড বসিয়ে হাইলাইট করবেন। এবং যে, দুই/তিন জায়গায় ব্যাকলিংক করবেন তা যেন ঐ কিওয়ার্ডেই হয়। 
৯. পাঠকের মন্তব্যের গঠনমূলক উত্তর দিবেন। কোন পাঠক যেন অখুশি না হয়। 
১০. পাঠক আপনার কাছে যে বিষয়ে লেখা চায় বা পাঠকের রিকোয়েস্ট মূলক পোষ্ট দ্রুত করার চেষ্টা করবেন। 
১১. যদি কখনো অন্য কারো লেখা কপি করতেই হয় তাহলে মুল লেখকের অনুমতি নিয়ে করবেন। 
১২. এক দিনে ৩ টা পোষ্টের বেশি পোষ্ট করবেন না। প্রতি প্তাহে ৩/৪ টি পোষ্ট করলে ভালো হয়।

ব্লগের গঠন

একটি ব্লগ দেখতে কেমন হবে ও আনুসঙ্গিক কিছু কথা তাহলে চলুন শুরু করি: 
১. আপনার ডোমেইন নেম আপনার নির্বাচিত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে ভালো হয়। 
২. ডোমেইনের কন্ট্রোল সম্পূর্ণ আপনার কাছে থাকতে হবে। 
৩. হোস্টিং নেয়ার পূর্বে মান যাচাই করে নিবেন। 
৪. হোস্টিং এর কন্ট্রোল আপনার কাছে থাকতে হবে। 
৫. হোস্টিং নেওয়ার আগে তার আপটাইম দেখে নিবেন। 
৬. কোম্পানীর ডেমো দেখে স্পীড বুঝে নিন। 
৭. ডোমেইনে কখনো bd, 24 ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। 
৮. ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করলে কখনো ভারী কালারফুল থিম ব্যবহার করবেন না। 
৯. অতিরিক্ত প্লাগিন কখনো ব্যবহার করবেন না। 
১০. প্লাগিন এর কাজ কোডিং করে করার চেষ্টা করুন। 
১১. ব্লগের লে-আউটে ২টির বেশি কলাম রাখবেন না। 
১২. ব্লগের ফন্ট গুলো কখনো অতিরিক্ত ছোট বা অতিরিক্ত বড় করবেন না। 
১৩. ব্লগের সাইড বারে বা পোষ্টের শেষে শেয়ার বাটন যুক্ত করুন কিন্ত কখনো পপআপ শেয়ার বক্স দিবেন না। 
১৪. এডসেন্স পাওয়ার আশা থাকলে কখনো অন্য কোন কোম্পানীর সস্তা বিজ্ঞাপন দিবেন না। 
১৫. ম্যাগাজিন স্টাইলের চকচকে সুন্দর একটি নরমাল থিম ব্যবহার করুন। 
১৬. যে থিমটি ব্যবহার করবেন তা যেন এস, ই, ও বান্ধব হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন। 
১৭. ব্লগের ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন প্রকার সাউন্ড বা ইমেজ ব্যবহার করবেন না। 
১৮. ব্লগের কালার গুলো এমন ভাবে নির্বাচন করবেন যেন ভিজিটর দের পড়তে কোন সমস্যা না হয়। 
১৯. ব্লগে অবশ্যই অবশ্যই যোগাযোগ ফর্ম রাখুন। 
২০. প্রতি পোষ্টে মন্তব্যের ব্যবস্থা রাখুন।